ড. ইউনূসের শ্রম আইনের মামলা

নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগে বাদীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আর্জি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগে মামলার বাদী শ্রম পরিদর্শক তরিকুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আবেদন করেন।

আদালতে এ বিষয়ে শুনানিতে ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী। ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট পাঁচজন শ্রম পরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকমকে একটি নোটিশ দেন। নোটিশে পাঁচজনই স্বাক্ষর করেন কিন্তু সাধারণ নিয়মানুযায়ী শুধু পরিদর্শন টিমের সিনিয়র অফিসার নোটিশ ইস্যু করতে পারেন। কিন্তু বাদী শুধু ড. ইউনূসকে ফাঁসানোর জন্য আর চারজনের নাম টেম্পারিং করে সংযোজন করে বিবাদীকে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

বিবাদী নোটিশ জালিয়াতির বিষয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৫(১) (সি) অনুযায়ী বাদীসহ অন্যান্য শ্রম পরিদর্শক এবং ইন্সপেক্টর জেনারেলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে বলেন, নোটিশ টেম্পারিং করে তাদের সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে। তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করছি।

অন্যদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তারের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, সাক্ষীর জেরা চলছে। এ অবস্থায় তারা আগে একটি আবেদন দিয়েছে। এখন আরেকটি আবেদন করছে। এই আবেদন সাক্ষী শেষে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় দিতে পারেন। কিন্তু তা না করে উনারা সময় নষ্ট করার জন্য এ আবেদন করেছেন। এই আবেদন খারিজ করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি আদেশের জন্য রাখেন।

এরপর বাদী তরিকুল ইসলামকে পঞ্চম দিনের মতো জেরা শুরু করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। বুধবার জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী ৩ অক্টোবর পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো: আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো: শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এফএইচ/বিএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।