সাজা পরোয়ানা শোনানোর পর কারাগারে বিএনপি নেতা হাবিব
আট বছর আগে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা নাশকতার মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে সাজা পরোয়ানা শোনানোর পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সাজা পরোয়ানামূলে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা পড়িয়ে শোনানো হয়। এসময় তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ৯ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত হাবিবুর রহমান হাবিব, নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আহসান হাবিব লিংকনসহ ১৫ জনের চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির গ্রাম সরকার বিষয়ক সহসম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শামীমুর রহমান শামীম, তৌহিদুল ইসলাম, তুহিন, মনিরুল হক মনির, মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, মাসুদ রানা, আব্দুর রাজ্জাক, জিয়াউল ইসলাম জুয়েল, মো. আরিফ, মোহাম্মদ নিশান মিয়া, মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সুমন, মোজাম্মেল হক।
অপরদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দেন আদালত। তারা হলেন- মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, দ্বীন ইসলাম, মোহাম্মদ মামুন ও আমিনুল ইসলাম।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল ইসলাম। অপর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩০-৪০ জন যমুনা ফিউচারপার্কের বিপরীতে প্রগতি সরণীতে জনসাধারণের চলাচলে গতিরোধ, পুলিশের কাজে বাধা ও বাসে অগ্নিসংযোগ করে।অগ্নিসংযোগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় ভাটারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে ওই বছরের ১২ মে হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ভাটারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর শাহ মো. সাজু মিয়া।
অন্যদিকে, ১৯ নভেন্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেফতার করে র্যাব। ২২ নভেম্বর তাকে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও বিচারপতি বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে হাজির করা হয়। এসময় হাইকোর্টের এক বিচারপতিকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া ও আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন হাইকোর্ট।
জেএ/এমএএইচ/জিকেএস