ভিকারুননিসায় ভর্তি বাতিল

‘১৬৯ শিশুর পরিস্থিতির জন্য অভিভাবকরা দায় এড়াতে পারেন না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২১ মে ২০২৪

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৬৯ শিশুর ভর্তি নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এর দায় তাদের অভিভাবকরা এড়াতে পারেন না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণার সময় মঙ্গলবার (২১ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

এদিন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি নিতে ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে, অভিভাবক ও ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী শামীম সরদার। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম। মাউশির পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মঈনুল হাসান।

১৬৯ শিক্ষার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খুররম শাহ মুরাদ ও আইনজীবী মো. লিটন।

আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মাউশির আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মঈনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে আদালত বলেন, ভিকারুননিসায় ১৬৯ শিক্ষার্থীর বিধিবহির্ভূতভাবে নীতিমালায় উল্লিখিত বয়সসীমার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। সেটি প্রমাণিত হয়েছে। ফলে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ভিকারুননিসায় প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন।

তিনি জানান, শিক্ষানীতিতে প্রাথমিকে ভর্তির সময় শিশুদের বয়স উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই বয়স সীমার বাইরে গিয়ে ভর্তি করিয়ে শিশুর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অভিভাবকরা দায় এড়াতে পারেন না বলে পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট।

মইনুল হাসান বলেন, ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের একজন প্রতিনিধি ও বুয়েটের একজন আইটি এক্সপার্টকে রাখতে বলা হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী জানান, ১৬৯ শিক্ষার্থীর শূন্য আসনে ভর্তির অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি নিতে ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ভিকারুননিসায় ভর্তি নিয়ে বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগ এনে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক দুই শিক্ষার্থীর মা ১৪ জানুয়ারি রিট করেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। একপর্যায়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর একটি স্মারক হাইকোর্টে উপস্থাপন করে।

যেখানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা অনুসরণ করেনি উল্লেখ করে বলা হয় যে, ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার প্রক্রিয়া ছিল বিধিবহির্ভূত। এসব ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন ও ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৯ জন।

এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে শিগগির মাউশিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৬৯ জনের ভর্তি বাতিল করে। ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের পর অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শূন্য আসনে ভর্তি নিতে ৬ মার্চ নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে ভর্তি বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

ওই আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল হাইকোর্টকে দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে এই সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল ও অপেক্ষমাণদের ভর্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় রুল শুনানি শেষ হয়েছে।

এফএইচ/জেডএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।