পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কী ঘটে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

টেস্টোস্টেরন শব্দটা আমরা প্রায় শুনি পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে। এটি একটি হরমোন, যা শরীরের পেশি, যৌন স্বাস্থ্য, শক্তি, মেজাজ ও আরও অনেক ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু যখন এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর ও মনের ওপর তার প্রভাব অজান্তেই স্পষ্ট হতে শুরু করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক -

১. যৌন আকাঙ্ক্ষা ও যৌন স্বাস্থ্যে পরিবর্তন

টেস্টোস্টেরন পুরুষদের যৌন ইচ্ছা বা লিবিডো নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন এর মাত্রা কমে যায়, তখন পুরুষদের মধ্যে যৌন আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং ইরেকশন বা যৌনক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিবর্তন অনেক সময় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।

২. শরীরের গঠন ও পেশিশক্তিতে ভিন্নতা

টেস্টোস্টেরন শরীরের পেশি ভর বজায় রাখে এবং শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে পেশি ভর কমে যেতে পারে, ফলে শরীরের গঠন বদলে যেতে পারে এবং শক্তি কমে যেতে পারে। অনেক পুরুষই টেস্টোস্টেরন কমে গেলে ক্লান্তি অনুভব করেন।

পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কী ঘটে

৩. হাড় ও হাড়ের ঘনত্বে প্রভাব

এই হরমোন হাড়ের স্বাস্থ্যেও ভূমিকা রাখে। টেস্টোস্টেরন কমে গেলে হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে, যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে আঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পেশি ও হাড়ের ভারসাম্যও থেমে যায়।

৪. মানসিক পরিবর্তন ও মেজাজের ওঠানামা

টেস্টোস্টেরনের উপর মেজাজ নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব থাকে। যখন হরমোন কম থাকে, অনেক পুরুষ উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মানসিক চাপ বা মনোযোগের সমস্যা অনুভব করেন। গবেষণায় এমনও বলা হয়েছে যে কম টেস্টোস্টেরন মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

৫. ওজন ও শরীরের চর্বি বাড়া

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শরীরের বিপাক ক্রিয়া ধীর হতে পারে। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যেতে পারে, শরীরের ওজন বাড়তে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা ক্লান্তির সমস্যা জটিল হতে পারে।

পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কী ঘটে

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

যদি আপনি দীর্ঘ সময় ধরে নিচের সমস্যাগুলো অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত।

>> কম যৌন ইচ্ছা

>> পেশি কমে যাওয়া

>> হাড় দুর্বল লাগা

>> নিয়মিত ক্লান্তি

>> মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন

কম টেস্টোস্টেরন নির্ণয় করতে রক্তে টোটাল টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হয়, আর প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সঠিক চিকিৎসা বা জীবনযাত্রার পরিবর্তন পরামর্শ দেন।

পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কী ঘটে

কিছু সাধারণ করণীয়

সাধারণ অভ্যাস বদলেই অনেক সময় টেস্টোস্টেরন ঠিক রাখা সম্ভব। যেমন —

>> নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা

>> পর্যাপ্ত ঘুম

>> মানসিক চাপ কমানো

>> স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার)

এসব অভ্যাস পুরুষদের শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

টেস্টোস্টেরন শুধু একটি হরমোন নয়, এটি শরীরের শক্তি, যৌনস্বাস্থ্য, মেজাজ, পেশিবল, হাড় ও মানসিক স্বাস্থ্যের একটি মূল চালিকাশক্তি। তার মাত্রা কমে গেলে শরীর ধীরে ধীরে বার্তা দেয়, আর সেই বার্তা উপেক্ষা না করে সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা উচিত, যা একজন পুরুষের স্বাভাবিক, সক্রিয় জীবনযাপনে সাহায্য করে।

সূত্র: ওয়েবএমডি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।