কিক ডে
পুরোনো কষ্টকে লাথি মেরে নতুন যাত্রা শুরুর দিন আজ
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র সপ্তাহ শেষ। গোলাপ, চকলেট, প্রপোজ - সব আলোচনার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি আসে একটু অন্য মেজাজে। দিনটির নাম কিক ডে । এটি অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইক-এর অংশ হিসেবে অনলাইনে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।
নাম শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই - এটি কাউকে সত্যি লাথি মারার দিন নয়। বরং প্রতীকী অর্থে পুরোনো কষ্ট, বিষাক্ত সম্পর্ক আর আবেগীয় বোঝাকে বিদায় জানানোর দিন।
কিক ডে আসলে কী বোঝায়?
ডিজিটাল সংস্কৃতিতে এই দিনটি হলো নিজের জীবনের সেইসব স্মৃতি বা মানুষকে আপনার জীবন থেকে কিক মেরে করে বের করে দেওয়ার উপলক্ষ্য - যারা আপনাকে মানসিকভাবে আটকে রাখছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের আবেগীয় জট তৈরি হয়। পুরোনো মেসেজ, ছবি বা উপহার অনেক সময় সেই কষ্টকে বারবার মনে করিয়ে দেয়। এই দিনটি প্রতীকীভাবে সেই আবেগীয় আবর্জনা পরিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে।
আবেগীয় আবর্জনা পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
ভাবুন তো - পুরোনো চ্যাট ডিলিট করতে পারছেন না? একটা উপহার তাকেই পড়ে আছে, কিন্তু দেখলেই মন খারাপ হয়? কোনো সম্পর্ক শেষ হলেও ভেতরে ভেতরে এখনও ক্ষোভ জমে আছে?
কিক ডে হতে পারে ছোট্ট এক রিসেট বাটন। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ইমোশনাল ডিক্লাটারিং বা অপ্রয়োজনীয় আবেগের বোঝা সরিয়ে ফেলা।
তবে হুট করে সব মুছে ফেলাই সমাধান নয়। এখানে লক্ষ্য হলো - নিজের মানসিক শান্তি।
আত্মসম্মানের জন্য বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বের হওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘদিনের বিষাক্ত বা টক্সিক সম্পর্ক আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়, আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কিক ডে তাই অনেকের কাছে একটি প্রতীকী ঘোষণা - আমি নিজের ভালো থাকার জন্য অপ্রয়োজনীয় পিছুটান ছেড়ে দিচ্ছি।

নতুন শুরুর সুযোগ
পুরোনো জায়গা খালি না করলে নতুনের জায়গা তৈরি হয় না। এ কথাটা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন -
>> আমি কি অতীতের জন্য আটকে আছি?
>> আমি কি নতুন সম্ভাবনার জায়গা তৈরি করেছি?
>> আমার মানসিক শান্তি কি অন্য কারও আচরণের ওপর নির্ভর করছে?
নতুন শুরু মানে নতুন মানুষ খোঁজা নয়। নতুন শুরু মানে নিজের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়া।
তবে কিক ডে যেন আবেগের বশে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর অজুহাত না হয়। কারও প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে নয়, বরং নিজের সীমারেখা ঠিক করে নেওয়াই আসল কথা।
১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালেন্ডারের আরেকটি দিনই হয়তো। কিন্তু চাইলে এটি হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত ‘রিলিজ ডে’। অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি, অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক আর মানসিক ক্লান্তিকে বিদায় জানিয়ে নিজের জন্য নতুন জায়গা তৈরি করার দিন।
কারণ শেষ পর্যন্ত নিজের ভালো থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এএমপি/এমএস