প্রতিদিন স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করা কি আদৌ নিরাপদ
গরমে, অসুস্থতার পর বা রোজার সময় - অনেকেই প্রতিদিন স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করেন। কেউ মনে করেন এতে শরীর সতেজ থাকে, কেউ আবার ভাবেন এটি সবসময় ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো - প্রতিদিন নিয়ম করে স্যালাইন বা ডাবের পানি খাওয়া কি সত্যিই দরকার, নাকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই এটি উপকারী?
ওরাল স্যালাইন বা ওআরএস
প্রথমে আসি ওরাল স্যালাইনের কথায়। স্যালাইন মূলত ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকে নির্দিষ্ট অনুপাতে সোডিয়াম, গ্লুকোজ ও পটাশিয়াম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, এটি চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে কার্যকর।
তবে সুস্থ ব্যক্তি যদি প্রতিদিন অকারণে স্যালাইন পান করেন, তাহলে অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জমে উচ্চ রক্তচাপ বা ফোলাভাবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অর্থাৎ স্যালাইন ওষুধের মতো - প্রয়োজন হলে উপকারী, অযথা নয়।

ডাবের পানি
এবার বলি ডাবের পানি নিয়ে। প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবে ডাবের পানি জনপ্রিয়। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সামান্য প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। গরমে ঘাম ঝরার পর বা হালকা পানিশূন্যতায় এটি শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করতে সাহায্য করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানি ব্যায়ামের পর শরীরের তরল ঘাটতি পূরণে কার্যকর হতে পারে।
তবে এখানেও ভারসাম্য জরুরি। ডাবের পানিতে পটাশিয়াম বেশি থাকে। যাদের কিডনির সমস্যা আছে বা পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের প্রতিদিন বেশি ডাবের পানি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও ডাবের পানির প্রাকৃতিক চিনি হিসাবের মধ্যে রাখা উচিত।

সুস্থ মানুষের জন্য দিনে এক গ্লাস ডাবের পানি সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। কিন্তু স্যালাইন প্রতিদিন পান করার কোনো প্রয়োজন নেই, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন বা পানিশূন্যতার লক্ষণ থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিনের পানীয় হিসেবে সাধারণ পানি-ই সেরা।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওআরএস নির্দেশিকা), হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ওয়েবএমডি
এএমপি/জেআইএম