সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: এআই

সকালের না খাওয়ার অভ্যাস এখন অনেকের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ততা, সকালে তাড়াহুড়া, কিংবা ওজন কমানোর ইচ্ছার মতো বিভিন্ন কারণে মানুষ দিনের প্রথম খাবারটি এড়িয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবেও সকালবেলা না খেয়ে থাকেন। তবে এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী নয়, বরং এটি গ্যাস, অম্বল ও হজমজনিত সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

নাস্তা না করলে কেন অ্যাসিডিটি বাড়ে

আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দ মেনে চলে, যাকে বলা হয় সার্কাদিয়ান রিদম । এই ছন্দ অনুযায়ী, ভোরের দিকেই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতে শুরু করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো খাবার গ্রহণের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করা।

কিন্তু যখন আমরা সকালে দীর্ঘ সময় কিছু না খেয়ে থাকি, তখন এই অ্যাসিড খালি পেটে জমতে থাকে। খাবার না থাকায় অ্যাসিডের কাজ করার মতো কিছু থাকে না, ফলে এটি ধীরে ধীরে পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এর ফলেই পেটে জ্বালাপোড়া, বুকজ্বালা, ঢেকুর, বমি ভাব ও মুখে টক স্বাদের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ-এ ভোগেন, তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত সকালের নাস্তা এড়িয়ে চলেন। এর ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি বাড়ায়।

ঘুম থেকে ওঠার পর কখন খাওয়া উচিত

অনেকেই মনে করেন, ঘুম থেকে উঠেই ভারী খাবার খাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে শরীর তখন পুরোপুরি সক্রিয় থাকে না, তাই একেবারে উঠে সঙ্গেসঙ্গে ভারী খাবার খাওয়া অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
সঠিক পদ্ধতি হলো, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমে এক গ্লাস পানি পান করা। এতে শরীর হাইড্রেটেড হয় এবং হজমতন্ত্র ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করে। এরপর ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে নাস্তা সেরে ফেলা সবচেয়ে ভালো।
এ সময়ের মধ্যে খাবার খেলে রাতভর তৈরি হওয়া অ্যাসিড নিরপেক্ষ হতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। ফলে গ্যাস বা অম্বলের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় এবং শরীরও দিন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পায়।

নাস্তায় কী ধরনের খাবার উপকারী

সকালের নাস্তায় কী খাচ্ছেন, তা অ্যাসিডিটির উপর বড় প্রভাব ফেলে। এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

ওটস, আটার রুটি, ডিম, কলা বা অন্যান্য হালকা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সকালের জন্য উপযুক্ত। এই ধরনের খাবার শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং হজমতন্ত্রকে অতিরিক্ত চাপ দেয় না। একই সঙ্গে এগুলো পাকস্থলীর অ্যাসিডের প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে।

অন্যদিকে, খালি পেটে তেল-মসলাদার খাবার, অতিরিক্ত ঝাল বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাছাড়া সাইট্রাস ফলের জুস, যেমন লেবু বা কমলার রস, খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি আরো বেড়ে যেতে পারে। কার্বোনেটেড পানীয়ও একইভাবে পেটে অস্বস্তি তৈরি করে, তাই এগুলো সকালবেলা এড়িয়ে চলাই ভালো।

সকালের ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যাওয়া হয়তো সাময়িকভাবে সময় বাঁচায় বা অভ্যাসগতভাবে সহজ মনে হয়, কিন্তু এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড জমে গিয়ে নানা ধরনের হজমজনিত সমস্যা তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।