স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজই

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

‘নির্যাতনকারী স্ত্রী’ এই শব্দটি আমরা খুব কমই শুনি। অনেক সময় এটি মজার ছলে বলা হয়, গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয় না। ফলে একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে পুরুষরা নাকি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

পারিবারিক সহিংসতার আলোচনায় সাধারণত নারীদের ভুক্তভোগী হিসেবে দেখা হলেও, অনেক পুরুষও তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে মানসিক, শারীরিক কিংবা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার হন। সমস্যা হলো, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার জায়গা খুব সীমিত। অনেকেই বুঝতে পারেন না তারা নির্যাতনের মধ্যে আছেন, আর বুঝলেও সামাজিক লজ্জা বা ভয়ের কারণে চুপ থাকেন।

স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজই

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট আচরণ আছে যা ইঙ্গিত দেয়। একটি সম্পর্ক সুস্থ নয়, বরং তা নির্যাতনের দিকে যাচ্ছে। নিচে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো-

বারবার অপমান বা ছোট করা

যদি আপনার সঙ্গী নিয়মিত আপনাকে তুচ্ছ করেন, ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যদের সামনে তাহলে তা কেবল খারাপ ব্যবহার নয়; মানসিক নির্যাতনের লক্ষণ। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতিতে থাকলে আত্মসম্মান ভেঙে পড়তে পারে।

স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজইসবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা

আপনি কী পরবেন, কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন সবকিছু যদি আপনার সঙ্গী ঠিক করে দেন, তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। এতে ধীরে ধীরে নিজের স্বাধীনতা হারানোর অনুভূতি তৈরি হয়।

শারীরিক আক্রমণ বা ভয় দেখানো

হাত তোলা, ধাক্কা দেওয়া বা আঘাত করার হুমকি এসব স্পষ্টভাবে সহিংসতা। শুধু শারীরিক নয়, এর প্রভাব মানসিক দিক থেকেও গভীর হতে পারে।

আরও পড়ুন: 

অস্বাভাবিক হিংসা ও সন্দেহ

অকারণে সন্দেহ করা, সবকিছুতে দোষ খোঁজা বা অতিরিক্ত অধিকার দেখানো এসব আচরণ সম্পর্ককে অস্বস্তিকর করে তোলে। এটি মানসিক চাপ তৈরি করার একটি উপায়ও হতে পারে।

স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজইআপনাকে একা করে ফেলা

বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া, দেখা করতে না দেওয়া এসবই নির্যাতনের কৌশল হতে পারে। এতে একজন মানুষ ধীরে ধীরে একা হয়ে পড়ে এবং সাহায্য পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ

আপনার অনুমতি ছাড়া ফোন, ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করা স্বাভাবিক নয়। এটি অবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়।

স্ত্রী না নির্যাতনকারী? সত্যটা জানুন আজই

নিজের ক্ষতির ভয় দেখানো

নিজের ক্ষতি করা বা আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা অত্যন্ত গুরুতর মানসিক নির্যাতন। এতে আপনি বাধ্য হয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও নির্যাতন বাস্তব, এটি অস্বীকার করার কিছু নেই। যদি এই লক্ষণগুলো আপনার জীবনে বারবার দেখা যায়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। মনে রাখবেন, নীরব থাকা সমাধান নয়। বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা পেশাদার কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার প্রথম ধাপ। আপনি একা নন, এবং এই বাস্তবতাকে স্বীকার করাই পরিবর্তনের শুরু।

তথ্যসূত্র: ম্যানকাইন্ড ইনিশিয়েটিভ, হেলথলাইন

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।