তাড়াহুড়ো করে সেহরি করলে যা হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজানে অনেকেরই সেহরির সময় ঘুম ভাঙে শেষ মুহূর্তে। তাড়াহুড়া করে দুই-এক গ্রাস খেয়ে পানি পান করে রোজা শুরু - এ যেন পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দ্রুত সেহরি শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

খালি পেটে দীর্ঘ সময়: শরীরের প্রস্তুতি দরকার

সেহরি হলো রোজার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। কারণ এরপর প্রায় ১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এই সময় শরীর গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেন ভাণ্ডার থেকে শক্তি নেয়। যদি সেহরিতে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও পানি না নেওয়া হয়, তাহলে দুপুরের পর থেকেই দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার জন্য শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি। তাড়াহুড়া করে কম খেলে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

দ্রুত খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

শুধু কম খাওয়াটাই একমাত্র সমস্যা না। তাড়াহুড়া করে খেলে আরও কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে -

প্রথমত, খাবার ভালোভাবে চিবানো হয় না। এতে হজমের সমস্যা, গ্যাস বা অম্বল বাড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত দ্রুত খেলে পাকস্থলীতে হঠাৎ চাপ পড়ে, ফলে অস্বস্তি হয়।

তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দিনের শুরুতেই ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

মায়ো ক্লিনিক উল্লেখ করেছে, দ্রুত খাবার গ্রহণ হজমে বিঘ্ন ও অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে।

সেহরিতে কী থাকা উচিত?

পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরিতে থাকা উচিত -
>> ধীরগতিতে শক্তি দেয় এমন কার্বোহাইড্রেট; যেমন - ওটস, লাল চাল, রুটি
>> প্রোটিন - ডিম, ডাল, দুধ
>> স্বাস্থ্যকর চর্বি; যেমন - বাদাম, বীজ
>> এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি

ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন পরামর্শ দেয়, রোজার আগে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা দীর্ঘ সময় তৃপ্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কম রাখে।

মানসিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ

শারীরিক সমস্যা ছাড়াও ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ তাড়াহুড়ো করলে শরীর স্ট্রেস রেসপন্সে চলে যায়। কর্টিসল হরমোন বেড়ে গেলে রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন বাড়তে পারে। তাই সেহরির জন্য অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় রাখা ভালো।

তাড়াহুড়ো করে সেহরি করা একদিন-দুইদিনে বড় সমস্যা না-ও করতে পারে। কিন্তু পুরো মাসজুড়ে এটি করলে ক্লান্তি, ডিহাইড্রেশন ও হজমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।