বিটরুট কাঁচা খাবেন নাকি রান্না? কোনটা বেশি উপকারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

টকটকে রানি গোলাপী রঙের বিটরুট এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বেশ জনপ্রিয়। কেউ সালাদে কাঁচা বিটরুট খান, কেউ আবার তরকারি, স্যুপ, শরবত বা ভাজি করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো - বিটরুট কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্না করলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়?

কাঁচা বিটরুটে ভিটামিন সি, ফোলেট, পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি অক্ষুণ্ন থাকে। বিশেষ করে এতে থাকা নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপ নেয়, যা রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং ব্যায়ামের সময় সহনশীলতা বাড়াতে কাঁচা বিটরুট বেশি কার্যকর।

বিটরুট কাঁচা খাবেন নাকি রান্না? কোনটা বেশি উপকারী

সালাদ বা জুস হিসেবে খেলে এই উপকারগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কাঁচা বিটরুট অনেকের জন্য হজমে ভারী হতে পারে। যাদের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা সংবেদনশীল পাকস্থলী আছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা বিটরুট পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে রান্না করা বিটরুট তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য। হালকা সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করলে ফাইবার নরম হয়, ফলে হজমে চাপ কম পড়ে। রান্না করা বিটরুটে ভিটামিন সি কিছুটা কমে গেলেও আয়রন, ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বড় অংশ থেকেই যায়। যাদের হজমের সমস্যা আছে, শিশু ও বয়স্কদের জন্য রান্না করা বিটরুট বেশি নিরাপদ ও উপযোগী।

বিটরুট কাঁচা খাবেন নাকি রান্না? কোনটা বেশি উপকারী

তবে বিটরুট বেশি তেলে ভাজা বা অতিরিক্ত সময় রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই গভীর তেলে ভাজা বা অতিরিক্ত ঝাল-মশলা দিয়ে রান্না না করাই ভালো। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো হালকা সেদ্ধ, স্টিম করা বা অল্প রান্না করে খাওয়া।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সুস্থ হজমক্ষমতা থাকলে কাঁচা বিটরুট খাওয়া বেশি পুষ্টিকর, আর হজমের সমস্যা থাকলে রান্না করা বিটরুটই ভালো বিকল্প। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় দুটোই পালা করে রাখলে বিটরুটের পূর্ণ উপকার পাওয়া সম্ভব।

সূত্র: হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ইউএসডিএ ফুডডাটা সেন্ট্রাল, এনএইচএস ইউকে

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।