তাইমুন পিয়ার কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০

কথামালা

আজ খুব ইচ্ছে হচ্ছে -
খুব ইচ্ছে হচ্ছে তোমার আলুথালু চুলে
একটু আঙুল চিরুনি চালাতে।
দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে
অভিমানে গাল দুটো ঈষৎ নীল হল কিনা
না লাল নয়।
তোমার ভ্রু যুগলের মাঝে কুঞ্চিত
কটা রেখা?
খুব গুণতে ইচ্ছে হচ্ছে
খুব খুব বেশি অভিমানে
আমার চোখে বাষ্প ভর করে
তোমারো কি তাই?
স্বচ্ছ ফ্রেমের আড়ালে তা তুমি সহজে হয়ত লুকিয়ে ফেল তাইনা?
আর আমি গুলিয়ে ফেলি কাল মহাকাল
আমি হারিয়ে যাই কোন বন থেকে কোন বনে
তুমি দু'আঙুলের সুখটানে আমায়
সুতো ছাড়তে ছাড়তে কি ভাবো?
খুব জানতে ইচ্ছে হয়
ইচ্ছে হয় কান পেতে শুনি
পরাণসখা হৃদপদ্মে ভ্রমরের গুঞ্জরন
কার বেশি হয় -
তোমার না আমার?
ইচ্ছে করে তোমার না বলা কথার মানে বুঝতে
যা আমাকে বার বার বুঝিয়েও কোন কূল
করতে পারোনি।
ইচ্ছে করে জানতে কেন এমন হয়?
এমন হবার ছিল বলেই কি?
নাকি আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুলের মাশুল
ভুল গুলো কখনো
কেন ক্ষমা করেনা?
না করে না,
ভুলের উইপোকা কি বিচিত্র বিন্যাসে বাসা বাঁধে!
খুব সরু পথ গড়ে নেয়
তারপর কোন এক সময় দেখি শুধু খোলস!
অথচ কত স্বপ্ন ছড়ানো থাকে চারপাশে
কিছুই বোঝার সময় থাকেনা।
নিঃশেষ হয় যাপিত জীবন।
তুমি দেখোনি কখনো?
সেই যে প্রিয়তর মুখ খানি
আজ নক্ষত্রের মাঝে খুঁজি।
যদিও আপন বক্ষে ধারণ করেছি জানি
আমরা সে পথে না যাই
না মিশি ভুলে, না হারাই পথ অন্ধকারে।
সময় কি শেষ?
ফুরায়ে গিয়েছে বেলা?
শেষ কি হয়েছে পরানের যত খেলা?
জানি বলবে কিছুই হয়নি শেষ
এইতো কেবল শুরু
অভিমান আর আলোড়িত মেঘে
যে বেলা রেঙেছে তা রাঙানোই থাক
আমরা তা নিয়ে সাজাবো স্বচ্ছ বেলা।
একে একে তবে শুরু হোক গাঁথা
না বোঝা কথার মালা।

অবশিষ্ট

ভালোলাগা গুলো পাখি হয়ে উড়ে চলে গেছে দূরে
অপেক্ষায় থাকা দায় তবু থাকতে হয়।
আমিও ভাবতাম সুখ অতি নিকটে
কোন একদিন -
সুন্দরবন পোড়াবে না কেউ, থাকবে চিত্রা হরিণ ।
ফেসবুকে বসবে না নিয়ে বুকের ব্যথা টনটন।
কবিকে কেউ কাক বলবে না, নারীকে নদী
তুমি আমি গঙ্গাফড়িং উড়ে চলবো নিরবধি।
থাকে না ইচ্ছে মতো কোন কিছুই
ঘটে না যা ঘটুক ভাবি
দিনগুলো গহ্বরে হারায়
রেখে যায় স্মৃতি সবই।

অন্ধকার

সিঁড়িঘরের তলায় অন্ধকার চাষ করি যে জমিনে
সূর্য তার পানে তাকায় না।
কটকট করে দিনের বেলায় ব্যাঙ ডাকে,
মেঘ খেয়ে নেয় কুমিরে।
সবুজ বনবাদাড়- শিয়াল কিনে ভরে ঝোলায়
শিয়ালের আখের গোছায়।
আর আমি ভাবি কতকাল দেখি না!

সুন্দর যা কিছু গ্রাস করে নেয় রাহু,
নিয়ত মরি।
পিছনে ছুটে ছুটে হাঁফ ধরে যায় কলিজায়!
ফুসফুস ক্লান্ত হয়ে অক্সিজেন নিতে ভুলে যায়
কার্বনডাইঅক্সাইড আমাকে
জড়িয়ে নিয়ে অন্ধকারকে
আহ্বান করে!
হৃৎপিণ্ড কেটে বহু আগে জারে রেখেছিলাম
ফরমালিনহীন হৃদয় পচে যায়।

এইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]