EN
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনে মাস্ক সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এখনও কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এখন প্রতিরোধই এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। তবে সেদিক থেকেও নতুন বিপদ দেখা দিয়েছে চীনে। ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মানুষজন ব্যাপক হারে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার কারণে এসব জিনিসের সংকট দেখা দিয়েছে।

চীনে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৪১ জন মারা গেছেন। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে হুট করেই চাহিদা বেড়ে গেছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের মতো চিকিৎসা সামগ্রীর। এরই মধ্যে দেশটিতে তাওবাও-জেডি ডটকমের মতো পণ্যকেনার অনলাইন সাইটগুলোতেও স্টক শেষ হয়ে গেছে মাস্ক-হ্যান্ড স্যানিটাইজারের।

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মাত্র দুইদিনে প্রায় আট কোটি মাস্ক বিক্রি করেছে আলিবাবার মালিকানাধীন তাওবাও। জানুয়ারির ১৯ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে জেডি ডটকম মাস্ক বিক্রি করেছে অন্তত ১২ কোটি ৬০ লাখ পিস। এছাড়া তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্টকও শেষ হয়ে গেছে। বিক্রি বেড়েছে থার্মোমিটার, চশমাসহ ঠান্ডাজনিত রোগের বিভিন্ন ওষুধেরও।

এই সংকট মোকাবিলায় বেশিরভাগ মাস্ক কারখানাগুলো চীনা নববর্ষ উপলক্ষে ছুটিতে থাকা কর্মীদের ডেকে পাঠিয়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বাড়াতে দিনরাত কাজ চলছে। তাওবাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতাদের জানিয়েছে, এই সংকট সাময়িক। দেশজুড়ে শিগগিরই তাদের স্টক আবার পূরণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন পরিস্থিতিতে মাস্কের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
যদিও জেডি ডটকম ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছে, এমন দুর্যোগের মুহূর্তে তারা কিছুতেই পণ্যের দাম বাড়াবে না। তবে স্টকই যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে সীমিত দাম কতটুকু উপকার করবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

mask.jpg

শুধু চীনই নয়, প্রতিবেশী দেশ জাপান-থাইল্যান্ডেও চিকিসা সামগ্রীর স্টকের অবস্থাও অনেকটা একই। দ্য স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, একজন সর্বোচ্চ ১০টি মাস্ক কিনতে পারবে বলে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে ম্যাকাও।

আবার অনেক দেশই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় নিজেদের মজুদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় তাইওয়ান আগামী একমাসের জন্য মাস্ক রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষদের থেকে দূরে থাকাই মাস্কের চেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে। এজন্য উহানের লোকজন থেকে মার্কিন নাগরিকদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এশিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকরভাবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সামান্য হাঁচি, কাশি, কফের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ কী?
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে। সেক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কিনা তা এখনো অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে।

mask.jpg

করোনা ভাইরাস কতটা প্রাণঘাতী?
চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ জন মারা গেছেন। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ মারা যায় না, তারা বেশ কিছুদিন ভুগে তারপর প্রাণ হারায়। সেক্ষেত্রে যেহেতু এখনো এর প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি তাই ধরে নেয়া যায়, এর কারণে আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক মানুষ মারা যাবে।

সবচেয়ে বড় কথা, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

কোন প্রাণী থেকে ছড়ায়?
যে প্রাণীর শরীরে বাসা বাঁধার পর ভাইরাস ছড়াচ্ছে তা নির্ণয় করা গেলে সমস্যার সমাধান অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। নতুন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এর উৎস হচ্ছে উহান শহরে সামুদ্রিক খাবারের পাইকারি বাজার। ধারণা করা হচ্ছে, বেলুগা তিমির মতো সমুদ্রগামী কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী এই ভাইরাস বয়ে এনেছে। তবে বাজারে অহরহ বিচরণ করা মুরগি, বাদুর, খরগোশ, সাপের মতো প্রাণীগুলোও সন্দেহের বাইরে নয়।

গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথমবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। উহান শহরে প্রায় ৮৯ লাখ মানুষের বসবাস। মূলত ওই শহরে প্রাদুর্ভাব ঘটার পর ভাইরাসটি বেইজিংসহ চীনের অন্যান্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ম্যাকাও এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এমনকি ইউরোপেও ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। ফ্রান্সে অন্তত তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে, পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করায় চীনা কর্তৃপক্ষ উহান থেকে চলাচলকারী সকল যানবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া হুবেই প্রদেশে ভ্রমণে কড়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। যারা উহান থেকে ফিরেছেন তাদের অন্তত ১৪ দিন বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং ও সাংহাই কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল, রয়টার্স, বিবিসি

কেএএ/টিটিএন/জেআইএম