চলে গেলেন সন্ধানী ভাই
একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) চেয়ারম্যান প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন মারা গেছেন। শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার ল্যাড এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার আনুমানিক বসয় হয়েছিল ৭৬ বছর। হাবিবুর রহমান মিলন তিন দশক ধরে ( শুণ্য দশকের আগে) ইত্তেফাকে ‘সন্ধানী’ ছদ্ম নামে কলাম লিখতেন। যা তৎকালিন সময়ে ব্যপক জনপ্রিয় ছিল। এর ফলে তিনি কর্মক্ষেত্রে সন্ধানী ভাই নামে বেশ পরিচিতি লাভ করেন।
দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক বার্তা সম্পাদক খোন্দকার মুহাম্মদ খালেদ জানান, সন্ধানী প্রতিবেদন পড়ার জন্য পাঠকরা উন্মূখ হয়ে থাকতেন। সন্ধানীতে তিনি সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরতেন। তিনি আরো জানান, সন্ধানীর বড় ভাই প্রয়াত আহমেদুর রহমান তৎকালীন সময়ে ইত্তেফাকে ‘মিঠেকড়া ভিমরুল’ নামে কলাম লিখতেন। যা তাৎকালীন সময়ে পাঠক সমাজে ব্যপক জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আহমেদুর রহমানের আকষ্মিক মৃত্যুতে পাঠকরা অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েন। পরবর্তিতে সন্ধানী লিখে পাঠক তৃষ্ণা নিবারণ করেন হাবিবুর রহমান মিলন। তিনি শুধু সংবাদিকই ছিলেন না অবিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নের জনপ্রিয় নেতাও ছিলেন।
ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন জানান, অসুস্থতার কারণে গত ২ জুন হাবিবুর রহমান মিলনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
ইত্তেফাকের নগর সম্পাদক আবুল খায়ের জানান, হাবিবুর রহমানের মরদেহ তার ইস্কাটনের বাসায় রাখা হয়েছে। সাবেক সহকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রোববার বেলা ১টায় তার কফিন জাতীয় প্রেসক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে নেয়া হবে পিআইবিতে।
প্রয়াত হাবিবুর রহমান মিলনের অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়ে দেশে পৌঁছালে সোমবার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এসকেডি/এএইচ/এমএস