নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতি চায় ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস/ ছবি- ইউএনবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ভোটারদের বিশ্বাসযোগ্য উপস্থিতির ওপর জোর দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাংলাদেশ সফরে আসা ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন- এ দুটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি, যাতে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ইভারস আইজাবস বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে এখানে আমাদের কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে।

গত ১৬ ডিসেম্বর আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ইইউ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে ওই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে সেদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এরপর ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলটি বাংলাদেশে এসে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সবশেষ আজ আরও ৫৬ জন পর্যবেক্ষক দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য ঢাকা পৌঁছেছেন। দেশের ৬৪ জেলায় দলটি তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ইভারস আইজাবস জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের সবাই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলবেন।

আরও পড়ুন
ইইউয়ের পর্যবেক্ষক পাঠানো নির্বাচনের জন্য বড় অ্যান্ডোর্সমেন্ট 
এবারের নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক: ইইউ 

তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক নীতিতে অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউয়ের অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে এই মিশন। এছাড়া ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখছে, তা পর্যালোচনার জন্য ইইউ মিশনের আলাদা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনি মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাও মূল্যায়ন করবে এই মিশন।

প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা নির্বাচনের কারিগরি মূল্যায়ন করে থাকি। সেগুলো হলো- স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও হস্তক্ষেপ না করা। এ লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘমেয়াদি, দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা যায়- এমন একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করবো। আমরা পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবো, তবে ভোটের ফল নিয়ে প্রত্যয়ন করবো না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের।

তফসিল অনুযায়ী, বর্তমানে মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল শুনানি চলছে, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের দুইদিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।

কেএসআর/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।