হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম

সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৫৯ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাজ্যে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় হাইকমিশনার আবিদা ইসলামসহ অন্যরা

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি সত্যিকারের মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার যে ভিশন উপস্থাপন করেছে তা গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি রুমে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইলেকশন: হোয়াট নেক্সট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবিদা ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’এর সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বেশকিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিশেষ করে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে তিনি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল দর্শন হলো—দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা

এ সময় যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী।

নিজের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থপাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা বা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার সহযোগিতা প্রদান করছে।

চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো সিতেজ বাজপেয়ী বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপির এই নির্বাচনি বিজয় প্রত্যাশিতই ছিল।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো সোহেলা নাজনীন। এ সময় যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন, সংসদ সদস্য রূপা হকসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইএইচও/ইএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।