স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের সব পর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যেন রেকর্ডেড থাকে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৯ পিএম, ১১ মে ২০২৬
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভবিষ্যতে পুলিশের সব পর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। যেন সব বিষয় রেকর্ডেড রাখতে পারি। তদন্ত, অপারেশন, সব কার্যক্রমে, সেজন্য ব্যবস্থা নেবো।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আমরা বাড়াতে যাচ্ছি। কিছু বডিওর্ন ক্যামেরা আমাদের আছে। ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে যেন বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে তদন্ত, অপারেশন, সব কার্যক্রম, সব বিষয় রেকর্ডেড রাখতে পারি সেজন্য ব্যবস্থা নেবো।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী নূন্যতম বল প্রয়োগ নীতির বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, আপনারা সবাই দক্ষ পেশাদার পুলিশ অফিসার। আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে মানবাধিকারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, তাই বলে আপনারা অপরাধ কার্যক্রম বন্ধ করতে গেলে বা কমাতে গেলে বা প্রসিকিউশন টিমকে সহযোগিতা করতে গেলে তদন্ত কার্যক্রম যেন সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত হয়, সেজন্য আপনারা কৌশলে যা যা করতে হয়, সেরকম মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ, রেলপথ, শিল্প কলকারখানা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

মন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এখানে আমরা এখনো সুনাম অর্জন করতে পারিনি। আমাদের দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত। ট্যুরিস্ট পুলিশের যিনি সিনিয়র অফিসার রেসপন্সিবল, ওপরে তো আইজিপি আছে, আপনারা আবার একটা সমন্বিত উদ্যোগ নেবেন, যেন আমাদের দেশের ভাবমূর্তি বাড়ে এবং পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, অনলাইন জিডিসহ অন্যান্য সেবা দ্রুততার সঙ্গে প্রদানের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এটা এনশিওর করতে হবে যেন সবকিছু যথাসময়ে দিতে পারি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে অতীতে যেসব ভোগান্তি হতো, আমরা নিজেরা ভুক্তভোগী, জানি। সেই রকম কোনো রিপোর্ট যেন না আসে।

তিনি বলেন, আপনারা লিখেছেন পুলিশকে হতে হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। সেটা আপনারা নিজেরা যেন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন, সেরকম পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন আশা করি। প্রতিটি থানায় আগত সেবাপ্রার্থী যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া আইনি সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনাদের প্রতিটি আচরণ যেন রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ- এই স্লোগানকে কেবল মুখে নয়, কর্মে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনবান্ধব পুলিশ সেটা প্রমাণ করার জন্য সামনে আরও সুযোগ আছে, সময় আছে। আশা করি পুলিশ কর্মকর্তারা এটি হৃদয়ে ধারণ করবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, যে কোনোভাবেই হোক, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু বিষয়ে বিব্রত হতে হয়েছে। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য আপনারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এই বিগত দুই আড়াই মাস এই গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে এবং ভাবমূর্তি আপনারা সমুন্নত করতে পেরেছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটাকে আপনারা ধরে রাখবেন। তবে আমার দৃষ্টিতে অ্যাচিভমেন্ট অনেক বাকি আছে। খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক বাকি আছে, আপনারা চেষ্টা করবেন।

টিটি/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।