ঈদযাত্রায় নদীপথে থাকবে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

আশিকুজ্জামান
আশিকুজ্জামান আশিকুজ্জামান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
  • নদীপথে যাতায়াত করতে পারেন ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী
  • যাত্রীসেবায় সদরঘাটে থাকবে ২০০ স্বেচ্ছাসেবী কুলি
  • ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলবে না, অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান
  • পন্টুনের পেছনের অংশে কোনো নৌকা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না
  • যাত্রীচাপ কমাতে বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ থেকেও চলবে লঞ্চ 

এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে নিরাপত্তা ও সেবার বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২১ মে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৪ মে থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এ সময় নদীতে টহল, কন্ট্রোল রুম, ঘাট পুলিশ ও ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে। যাত্রীচাপ কমাতে বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও লঞ্চ চলাচল করবে এবং পন্টুনের নির্দিষ্ট অংশে নৌকা প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী এবং ১৭৫টি লঞ্চকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যবস্থাপনা সাজানো হয়েছে।

যাত্রীসেবায় হুইলচেয়ার, ট্রলি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও বয়স্কদের জন্য ক্যাডেট সেবা থাকবে। কুলিদের হয়রানি কমাতে ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। লঞ্চের ফিটনেস যাচাই, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং হটলাইন সেবা চালু থাকবে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও শৃঙ্খল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আশিকুজ্জামান আশিক

ঈদযাত্রায় নদীপথে থাকবে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চসদরঘাটে যাত্রীদের অপেক্ষায় লঞ্চগুলো, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: এবার ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে ঢাকা নদীবন্দরে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ২১ মে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২৪ মে অফিস ছুটি শুরু হওয়ার পর যাত্রীচাপ পুরোপুরি বেড়ে যাবে। বিশেষ করে নদীতে টহল ব্যবস্থা, ঘাট পুলিশ মোতায়েন, নিরাপত্তা কার্যক্রম, যাত্রীসেবা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগেভাগেই চালু করা হবে। এছাড়া যাত্রীচাপ কমাতে সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও লঞ্চ চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাগো নিউজ: ঈদযাত্রার মূল কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: কিছু কার্যক্রম ২১ মে থেকেই শুরু হবে। যেমন নদীতে রাউন্ড, ঘাট পুলিশ এবং নিরাপত্তা টহল। তবে মূল যাত্রীচাপ ২৪ মে থেকে শুরু হবে, কারণ ওই দিন থেকে অফিস ছুটি কার্যকর হবে এবং মানুষ ব্যাপকভাবে বাড়ির পথে রওনা হবে। ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে।

আরও পড়ুন
ঈদে সদরঘাটে কুলি সেবা ফ্রি, থাকবে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া
নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে: নৌমন্ত্রী
সদরঘাটে যাত্রীচাপ কম, লঞ্চে কেবিন ফাঁকা

জাগো নিউজ: গত বছরের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। নদীতে বিশেষ টহল ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুনের পেছনের অংশে কোনো নৌকা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, ডিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। নদীপথে নিয়মিত রাউন্ড দেওয়া হবে এবং সন্দেহজনক বা অনিয়মপূর্ণ চলাচলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পন্টুন এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী ওঠানামা নিরাপদ রাখতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

জাগো নিউজ: যাত্রীদের জন্য কী কী বিশেষ সেবা রাখা হয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: যাত্রীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রবেশ ফটকে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা থাকবে। ট্রলি সেবা থাকবে, যাতে যাত্রীরা সহজে মালামাল বহন করতে পারেন। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত ক্যাডেট নিয়োজিত থাকবে। তারা সম্মানের সঙ্গে যাত্রীদের লঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সহায়তা করবেন। এতে বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমবে বলে আমরা আশা করছি।

ঈদযাত্রায় নদীপথে থাকবে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চযাত্রীদের অপেক্ষায় সদরঘাট, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: এবারও কি বিনামূল্যে কুলিদের সেবা থাকবে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: সদরঘাটে কুলিদের কারণে যাত্রীদের যে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটি নিরসনে এবারও আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার ঈদ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ থেকে ১০ দিনের জন্য ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কুলি নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকবেন এবং সবাইকে নীল জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় সহজেই শনাক্ত করা যাবে। ফলে শুধু অনুমোদিত কুলিরাই যাত্রীদের লাগেজ বহনে সহায়তা করতে পারবেন।

এই ব্যবস্থার কারণে আগের মতো অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত কুলিদের চাপ এবং যাত্রী হয়রানি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রলি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে কেউ চাইলে নিজেই নিজের মালামাল বহন করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কুলি সেবার বিনিময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা হবে, যাতে কেউ অতিরিক্ত বা অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে না পারে।

জাগো নিউজ: পন্টুন এলাকায় যাত্রীদের টানাটানি ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: পন্টুন এলাকায় ক্যানভাসার, হকার ও যাত্রী টানাটানির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এবার পন্টুন এলাকা সম্পূর্ণভাবে ক্যানভাসার ও হকারমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যাত্রীদের জোরপূর্বক লঞ্চে তোলার চেষ্টা করলে বা হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো পন্টুন এলাকায় একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে যাত্রীরা কোনো ধরনের চাপ বা বিশৃঙ্খলার শিকার না হন।

আরও পড়ুন
সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: ৬ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি
সদরঘাটে এক লঞ্চে আরেক লঞ্চের ধাক্কা, যুবক নিহত
বুড়িগঙ্গার বুকে ২৫ বছরের সংগ্রাম, ভাগ্য বদলায়নি রইস উদ্দিনের
সদরঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়ছে, ফ্রি কুলি ও ট্রলি সুবিধায় স্বস্তি

জাগো নিউজ: এবার কত সংখ্যক মানুষ নদীপথে যাতায়াত করতে পারে বলে আশা করছেন?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: আমরা আশা করছি এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ বাড়ি ফিরবেন। গত বছর একদিনে সর্বোচ্চ ১৩৪টি লঞ্চ চলাচল করেছে। এবার আমাদের মোট ১৭৫টির মতো লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চের বাইরেও অতিরিক্ত কিছু লঞ্চ রাখা হয়েছে। যাত্রীচাপ বাড়লে সেগুলো বিশেষ সার্ভিস হিসেবে চালানো হবে।

জাগো নিউজ: টিকিট ও অগ্রিম বুকিং নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকে। এ বিষয়ে আপনারা কী বলবেন?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: টিকিট বিক্রির বিষয়টি মূলত লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেকে অগ্রিম টিকিট নিয়ে থাকেন। তবে ঈদের সময় যাত্রীচাপ ও সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় শিডিউলে পরিবর্তন আসে। দেখা যায়, কোনো লঞ্চ রাত আটটায় ছাড়ার কথা থাকলেও বিকেল পাঁচটার মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। তখন যাত্রীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে আগে আসতে বলা হয়। আমরা চেষ্টা করছি যাতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে না পড়েন এবং যাত্রা ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

জাগো নিউজ: যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কী ধরনের ব্যবস্থা থাকবে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সদরঘাট এলাকায় চার থেকে পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এসব কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো কার্যক্রম মনিটর করা হবে। মাঠপর্যায়ে মোবাইল টিম ও মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। যাত্রীস্বার্থ রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

ঈদযাত্রায় নদীপথে থাকবে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চবিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: যাত্রীদের অভিযোগ বা জরুরি সমস্যার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চে বিআইডব্লিউটিএ, ডিএমপি, ফায়ার সার্ভিস ও র‍্যাবের হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করা হবে। যাত্রীরা যেকোনো সময় এসব নম্বরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে এবং তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

জাগো নিউজ: লঞ্চের ফিটনেস, নিরাপত্তা ও ভাড়া নিয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চকে নদীপথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিটি লঞ্চের কাগজপত্র, ফিটনেস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুসরণ করা হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেওয়া হবে না। নতুন ভাড়া থেকে ইতোমধ্যে লঞ্চ মালিকদের যাত্রীদের স্বস্তির জন্য প্রায় ১০ শতাংশ কম ভাড়া নিতে সরকার অনুরোধ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন
সদরঘাটে ফ্রি হুইলচেয়ার সেবা, সহজে লঞ্চে উঠতে পেরে খুশি রোকেয়া বেগম
ঈদে যাত্রীসেবায় প্রস্তুত সদরঘাট, বাড়ি ফিরবেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ
লঞ্চের টিকিট কাটতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র: বিআইডব্লিউটিএ
সদরঘাট: যেখানে প্রতিদিন গড়ে ওঠে হাজারো জীবিকার গল্প

জাগো নিউজ: যাত্রীচাপ কমাতে বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকে এবারও কি বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: হ্যাঁ, যাত্রীচাপ কমাতে সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও এবার লঞ্চ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সদরঘাটের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং যাত্রীরা বিকল্প স্থান থেকেও নিরাপদভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। আমরা চাই যাত্রীরা যেন কম ভোগান্তিতে দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারেন। এই ঘাটগুলো থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত চারটি করে লঞ্চ ছাড়বে।

জাগো নিউজ: ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে যাত্রীদের উদ্দেশে আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: আমরা যাত্রীদের অনুরোধ করবো, তারা যেন নির্ধারিত নিয়ম মেনে লঞ্চে যাতায়াত করেন এবং অযথা ভিড় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেন। কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হয়রানি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হন, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। সবাই যদি নিয়ম মেনে চলেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরা আশা করছি এবারের ঈদযাত্রা নদীপথে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক হবে।

জাগো নিউজ: ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা।

মুহম্মদ মোবারক হোসেন: জাগো নিউজ এবং পাঠকদেরও ধন্যবাদ এবং ঈদের শুভেচ্ছা। সবার ঈদযাত্রা নিরাপদ হোক।

এমডিএএ/এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।