সদরঘাটে ফ্রি হুইলচেয়ার সেবা, সহজে লঞ্চে উঠতে পেরে খুশি রোকেয়া বেগম

আশিকুজ্জামান
আশিকুজ্জামান আশিকুজ্জামান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
ঈদযাত্রা ঘিরে সদরঘাটে যাত্রীদের হুইলচেয়ার সেবা দিচ্ছেন মেরিন ক্যাডেটরা/ছবি: আশিকুজ্জামান

চোখের অপারেশনের পর হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল পিরোজপুরের বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমের। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিল মেয়ে রোজিনা বেগম। তিনিও মালপত্রসহ বৃদ্ধা মাকে একা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই এগিয়ে এলেন দুজন মেরিন ক্যাডেট। তারা রোকেয়া বেগমকে হুইলচেয়ারে করে তুলে দিলেন লঞ্চে। ঘাটে এসে এমন সেবা পেয়ে মা-মেয়ে দুজনই বেশ খুশি।

 

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে মাকে নিয়ে সদরঘাটে গিয়ে রোজিনা বেগম জানতে পারেন, সেখানে অসুস্থ ও অক্ষম যাত্রীদের জন্য ফ্রিতে হুইলচেয়ার সেবা দেওয়া হচ্ছে। তখনই এগিয়ে আসেন আল শাহরিয়ার রাশেদ ও শাফীঈ আহমদ আরজু নামে দুজন মেরিন ক্যাডেট। তারা সদরঘাটের প্রধান ফটক থেকে হুইলচেয়ারে করে রোকেয়া বেগমকে পন্টুন পার করে সরাসরি লঞ্চে তুলে দেন।

পরে রোজিনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের বাড়ি পিরোজপুরের সিরদার মল্লিকপুরে। মায়ের চোখের অপারেশন হয়েছে শনিবার। হাতে টাকা নেই, না খেয়েই বাড়ি ফিরছি। ঘাটে আসার পরই মাকে লঞ্চে তোলার যে সুবিধা পেলাম, বিষয়টি খুব ভালো লেগেছে। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।

jagonews24

মেরিন ক্যাডেট আল শাহরিয়ার রাশেদ ও শাফীঈ আহমদ আরজু জাগো নিউজকে বলেন, অসুস্থ, অক্ষম ও বয়স্ক যাত্রীদের সহায়তার জন্য হুইলচেয়ার সেবা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ফটকে দুটি করে হুইলচেয়ার থাকবে। সদরঘাটের ২০টি ফটকে মোট ৪০টি হুইলচেয়ার রাখা হয়েছে।

তারা আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে চালু করা এই সেবা ঈদের পরেও পাঁচদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যেন যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারেন।

নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীসেবায় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঈদ সামনে রেখে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি (প্রোটার) সেবা, ট্রলি ও হুইলচেয়ারসহ নানান সুবিধা চালু করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, নতুন সরকারের সময়ে যাত্রীদের কল্যাণে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে সদরঘাটের উপরের অংশ কিছুটা পরিচ্ছন্ন থাকলেও ভেতরের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। এবার পুরো এলাকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। এখন সদরঘাট অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন। সরেজমিনে এলে সেই পরিবর্তন বোঝা যাবে।

বন্দর পরিচালক জানান, ঈদের আগে পাঁচদিন এবং পরে পাঁচদিন মিলিয়ে মোট ১০ দিনের জন্য ফ্রি কুলি (প্রোটার) সেবা দেওয়া হবে। এসব কুলিদের বিআইডব্লিউটিএ নিজস্বভাবে মজুরি দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে, যেন যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের মালামাল বহনের সুবিধার্থে ১০০টি ট্রলি রাখা হয়েছে, যেগুলো বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে। যাত্রীরা চাইলে নিজেরাই এসব ট্রলি ব্যবহার করতে পারবেন।

অসুস্থ, অক্ষম ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক হুইলচেয়ার ছিল, এবার সদরঘাটের ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার রাখা হবে। এগুলো ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে সদরঘাটে অতিরিক্ত আরও দুটি ঘাট চালু করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ ঘিরে যাত্রীদের স্বস্তি দিতে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান জানান বন্দর পরিচালক।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সময়ে আমরা চেষ্টা করছি নদীপথের যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত ও স্বস্তিদায়ক সেবা নিশ্চিত করতে।

এমডিএএ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।