ঘুমের ঘোরে মাকে খুঁজছে শিশুটি
রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বোমার আঘাতে নিহত কথিত নারী জঙ্গির সঙ্গে আহত শিশুটি ঘুমের ঘোরে তার মা’কে খুঁজছে। শিশুটির পেটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হওয়ায় অনেকটা সময় তাকে ঘুমের ট্যাবলেট ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখছেন চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোস্ট অপারেটিভ থিয়েটারে কর্মরত একজন চিকিৎসক জানান, শিশুটি ঘুমের ঘোরে মা মা বলে ডেকে উঠছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবদুল গফুরও বলেছেন, শিশুটি রোববার অল্প দু’চারটা কথা বলেছে তবে সুনির্দিষ্টভাবে মা’কে ডেকেছে কিনা তা বলতে পারছি না।
ক্যাজুয়েলটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. জেসমিন নাহার সোমবার সকালে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, শিশুটির খাদ্যনালীতে একাধিক ছিদ্র থাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেলাই করে ফুঁটো বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের আগে শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। যে কোন মুহূর্তে সেলাই ছুটে অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।
তিনি জানান, রোববার রাতে তিনি শিশুটিকে দেখে আসেন। শিশুটির দেহে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হওয়ায় শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। তাকে ব্যথামুক্ত রাখতে ইনজেকশনের পাশাপাশি ঘুমজাতীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে দু’চারটা কথা বলেছে। শিশুটি ঘুমের ঘোরে তার মা’কে ডেকেছে এ সম্পর্কে জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুটি পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রয়েছে, ফলে সে মায়ের খোঁজ করেছে কি না তা বলতে পারবেন না।
জেসমিন নাহার জানান, আজ শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অবস্থার উন্নতি হলে ওয়ার্ডে দেয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, শনিবার মধ্যরাত থেকে দক্ষিণখানের আশকোনার পূর্বপাড়ার ৫০নং বাসাটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে সকালের দিকে আত্মসমর্পণের কথা বলা হলে দুই শিশুকে নিয়ে ওই বাসাটি থেকে দুই নারী বেরিয়ে আসেন। এদের মধ্যে একজন সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত মেজর জাহিদের স্ত্রী। অন্যজন পলাতক জঙ্গিনেতা মুসার স্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে আবারো আত্মসমর্পণের কথা বলা হলে এক নারী শিশুসহ বেরিয়ে এসে নিজের শরীরে থাকা গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটান। এতে ওই শিশুও আহত হয়। আশকোনার ঘটনায় মোট দুইজন নিহত হন।
আজ সোমবার সকালে জঙ্গি আস্তানার আলামত সংগ্রহে সিআইডির ২টি ক্রাইম সিন ইউনিট গেছে ঘটনাস্থলে।
এমইউ/এআরএস/জেআইএম