চার স্বজন হারিয়ে নির্বাক শান্তি বেগম
স্বামী, ভাই, ভাবী ও ভাতিজা বউকে হারিয়ে নির্বাক শান্তি বেগম। প্রিয় স্বজনদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ অবস্থায় এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছেন। কিছুক্ষণ পর পর চিৎকার করে বলছেন আমার চার আপনজনকে দাফন করবো সাহায্য করেন।
বুধবার বেলা ৩টার সময় রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়ার বৌবাজার এলাকায় ঝিলের ওপর তৈরি করা একটি টিনশেড দোতলা বাড়ি দেবে গিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ২৫ জনের মত। মৃত ১২ জনের মধ্যে চার জন শান্তি বেগমের আত্মীয় স্বজন। তারা হলেন: শান্তির স্বামী হারুন অর রশীদ (৪৫), চাচাত ভাই নিজাম খাঁ (৪৫), নিজামের স্ত্রী নিজামের স্ত্রী কল্পনা বেগম ও পুত্রবধূ রোকসানা বেগম(২২)। রোকসানা সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
শান্তি বেগমের স্বামী হারুন অর রশীদ মুদি দোকানের ব্যবসায়ী ছিলেন। পূর্ব হাজীপাড়ার বউবাজার এলাকায় বরিশাল স্টোর নামের দোকান রয়েছে তার। তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক হারুনের স্থানীয় বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। হারুনের মৃত্যুতে তার স্ত্রী শান্তি এখন পাগলপ্রায়। চোখে অশ্রু নিয়ে শান্তি বেগম বলেন, আমার চার জন নেই। কে তাদের দাফন করবে। কে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাবে। স্বজনদের দাফন করার জন্য এদিক ওদিক ঘুরছেন তিনি।
এদিকে শান্তির ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শান্তি বেগমের এক মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আর ৮ ও ১০ বছরের দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাই নাই। সরকারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যাক্তির স্বজনদের ২০ হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও রাত ১২টা পর্যন্ত কোনো সহায়তার পায়নি অভিযোগ করে শান্তির ভাই বলেন, কবে টাকা দিবে আর কখন লাশ দাফন করবো।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের দাফনের জন্য ২০ হাজার ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
দোতলা ওই টিনশেডে মোট ২২টি ঘরে দেড় শতাদিক লোকজন বসবাস করতো। যার বেশিভাগই শ্রমজীবী। বেলা ৩টার পর হঠাৎ খুঁটিসহ নিচতলার ঘরগুলো পানিতে দেবে যায়। উপর তলার লোকজন বের হতে পারলেও নিচতলার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আটকা পড়ে। বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত দুই শিশুসহ ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে।
এসআই/এআরএস/পিআর