বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষেধ
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সর্বোচ্চ সংরক্ষণের স্বার্থে ৬৫ দিন সকল প্রকার বাণিজ্যিক ট্রলার দ্বারা মৎস্য ও চিংড়ি আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশ্বের সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশগুলোতে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমে দুই থেকে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ভারতেও প্রজনন মৌসুমে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। মূলত মাছ সংরক্ষণের স্বার্থে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, আমরা গতকাল (সোমবার) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেরিন ফিশারিজ এসোসিয়েশন, মেরিন হোয়াইট ট্রলার ওণার্স অ্যাসোসিয়েশন, মেরিন ফিশারিজ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজের অধ্যাপক, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি. মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সামুদ্রিক এলাকা হলো ১ লাখ ১৮ হাজার ১১৩ বর্গ কিলোমিটার। যা প্রায় আরেক বাংলাদেশের সমান। এই বিশাল এলাকা আমাদের একক অর্থনৈতিক অঞ্চল।
মন্ত্রী বলেন, ট্রলার দ্বারা আহরিত মাছের বিগত ৫ বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রতি বছর জুন হতে আগস্ট মাসে সাদা মাছের আহরণ তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রতিবছর তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
বিগত ১৯ ফেব্রুয়ারি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সম্মেলন কক্ষে বঙ্গোপসাগরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি পর্যালোচনাক্রমে সুপারিশ প্রণয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বঙ্গোপসাগরে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মাছের মজুদ সংরক্ষণপূর্বক সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করা লক্ষ্যে সাদা মাছের ক্ষেত্রে প্রতিবছর ২৩ মে থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬০ দিন বাণিজ্যিক ট্রলার দ্বারা মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।
আরএস/আরআই