সমাবর্তনে এ কী বললেন রাষ্ট্রপতি (ভিডিও)
রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বেশ রসবোধ সম্পন্ন মানুষ। রসালাপও করতে পারেন দারুণ। এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকার সময়েও নির্জীব সংসদে তার রসবোধের কারণে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত রসবোধের প্রমাণ পাওয়া গেলো নর্দান ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তনে, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে।
তরুণদের কনসার্ট, তার নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও বিবাহিত জীবন নিয়েও নানা হাস্যকর মন্তব্য করেন। বক্তেব্যের পুরো সময় অডিটোরিয়াম মাতিয়ে রাখেন রাষ্ট্রপতি। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির দেয়া বক্তব্যকে তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। বক্তব্য দিতে উঠে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি শোনালেন তার রসবোধের কথা। তিনি যে লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে পারেন না সে বিষয়টিও ফুটে ওঠে তার বক্তব্যে।
আলোচনার শুরুতেই তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমার বক্তব্য সবসময় লিখিতই থাকে। এর বাইরে আমার কিছু বলার থাকে না। কী বলবো তা আমি নিজেই জানি না। শরীরটা খুব ভালো না। তাই আসতে চেয়েছিলাম না। সময়ও ছিল না। আমার চারপাশে সব সময় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ঘিরে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
এসএসএ ডিজিএফ আমান আমাকে বললেন আসতে হবে স্যার। তাই চলে এলাম। এখানে এসে দেখলাম আমান সাহেব উপস্থিত আছেন। আমাকে বলা হয়েছিল অনুষ্ঠান শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হবে। আর অসুখ কী হয়েছে তা আমি নিজেও জানি না।
আমার সবচেয়ে বেশি সমস্যা উঠতে-বসতে-শুইতে। আর কাশি দিলে খুব বুকের মধ্যে এবং পেঠে কিছু ব্যথা পাই। অনেকেই বলেন বুকে ব্যথা এটা হার্টেরও হতে পারে। তবে আমার একটা বিশ্বাস এটা হার্টের হবে না। কারণ হলো আমি বিয়ে করেছি অনেকদিন পূর্বে। এটা ৫১ বছর ধরে। বিয়ের পর থেকে ওই ভদ্র মহিলা বলে আসছে আমি নিষ্ঠুর ও নির্দোয়। ইংরেজিতে বলার সময় অনেক সময় আমাকে হার্টলেসও বলা হয়ে থাকে। যেখান আমার হার্টটি নাই, সেখানে আমার হার্টের সমস্যা হবে কীভাবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শুনেছি। অনুষ্ঠানের পরপরই কনসার্ট শুরু হবে। কনসার্টকে সামনে রেখে এ ধরনের কথাবার্তা আপনাদের ভালো লাগার কথা না। তবে আমরাতো পুরানা দিনের মানুষ তাই, পুরানা দিনের গানই বেশি ভালো লাগে।
এখনকার গান- মেলায় যাবে গো... মেলায় যাবে গো... ভালো না।
এরপর তিনি সমাবর্তনের আলোচনা শুরু করেন।
বিএ/আরআই