এখনো ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকলেও ক্রেতাদের কাছে আমদানি উৎস হিসেবে চীনের পর এখনো বাংলাদেশই প্রথম পছন্দ। তবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং ভিয়েতনামের কদরও বাড়ছে দ্রুত। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রধান ক্রয় কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
`অস্থির বিশ্বে আমদানি উৎস : পূর্ব আফ্রিকার জন্য সুযোগ` শীর্ষক প্রতিবেদন বলা হয়, সাক্ষাৎকারে পোশাক আমদানিতে চীনের পর প্রধান উৎস দেশের নাম জানতে চাইলে কর্মকর্তারা প্রথমে বাংলাদেশকে বেছে নেন। তাদের দ্বিতীয় পছন্দ ভিয়েতনাম, তৃতীয় মিয়ানমার ও চতুর্থ ইথিওপিয়া। ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, চীন থেকে আমদানি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। শ্রমিক ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক বছরে চীনা পোশাকের দর বেড়েছে।
আফ্রিকার সাব-সাহারা দেশগুলো তাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধায় আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে পোশাক বাজারে চীনের সক্ষমতা অর্জন করবে। ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশ্ব পোশাক বাজারে বর্তমানে এসব দেশের অংশ মাত্র দশমিক ৫৬ শতাংশ। যেখানে চীনের অংশ ৩৯ শতাংশ। পরিমাণে ১৭৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অংশ ৫ শতাংশ। পরিমাণে সাড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সাব-সাহারা দেশগুলো পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা। মাত্র দুই বছর আগে ২০১৩ সালের একই ধরনের জরিপে এ হার ছিল ২৪ শতাংশ।
২০১৩ সালে প্রকাশিত ম্যাকেঞ্জির একই ধরনের জরিপে কর্মকর্তাদের মত ছিল ২০২০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি দাঁড়াবে ৪২ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ স্বাধীনতার ৫০ বছরে আগামী ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বিএ/পিআর