মোবাইল-এ আর্থিক সহায়তা পাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা


প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ০৬ মে ২০১৫

শহরের বস্তি এলাকায় বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা মোবাইল ক্যাশ ট্র্যান্সফার সেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাবেন। বর্তমানে ২০টি জেলার ১৬ হাজার শিশু আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অধীনে ঢাকা শহরের বস্তি এলাকায় বসবাসকারি আরো ৫শ` শিশু আগামী ১৮ মাস মোবাইল ফোনের ক্যাশ ট্রান্সফার সেবার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাবে।

ইউনিসেফ এর সহায়তায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত `এনেবলিং এনভায়রনমেন্ট ফর চাইল্ড রাইট (ইইসিআর)` প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এই উদ্যোগটি। যার যাত্রা শুরু হলো বুধবার।

তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের আওতায় এই শিশুরা এবং তাদের পরিবার প্রতি মাসে তিন কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে পাবেন। শর্তগুলো হচ্ছে- শিশুদের অবশ্যই স্কুলে যেতে হবে, তারা কোন শিশুশ্রমে যুক্ত থাকলে তা বন্ধ করতে হবে এবং তাদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেয়া যাবে না।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির উপস্থিতিতে পল্লবীর ২ নং কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা হয়। এ সময় ইউনিসেফের প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেডার এবং গ্রামীণফোনের পরিচালক ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস দেলোয়ার হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেডার বলেন, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সরকারের সঙ্গে নেয়া এই উদ্যোগ বাংলাদেশে শিশু অধিকার বাস্তবায়নে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ এর একটি ভালো উদাহরণ। এর ফলে ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সমতা সৃষ্টির লক্ষ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের আরো সম্পদ বরাদ্দের পথ সুগম হতে পারে।

এই উদ্যোগে সুবিধার্থে গ্রামীণফোন বিনামূল্যে সংযোগসহ ৫০০টি হ্যান্ডসেট দিয়েছে। এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের পরিচালক ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস দেলোয়ার হোসেন আজাদ বলেন, বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং তাতে অধিকতর জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে মোবাইল সংযোগ যে ভূমিকা রাখতে পারে মোবাইল মানি ট্রান্সফার তার একটি মাত্র উদাহরণ।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে যারা আছেন তাদের কাছে বিনা ঝামেলায় আর্থিক সেবা পৌছে দেয়া এবং অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসকে একটি সহজ ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করে দেলোয়ার আরো বলেন, গ্রামীণফোন তার ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের শক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই উদ্যোগ এতিম শিশু এবং পিতা মাতার নিয়ন্ত্রণে নেই এমন শিশুদের জন্য নিকটাত্বীয়দের মাধ্যমে পারিবারিক নিরাপত্তায় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই অর্থ অভিভাবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দেয়া হয়, যাতে তারা শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে, ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে এবং জীবনের মান উন্নত করতে সক্ষম হয়।

এসএ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।