তানোর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে কোটি টাকা উধাও!
রাজশাহীর তানোর শাখা সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করতে আসা ব্যাংকের ঢাকা হেড অফিসের কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। তবে কতো টাকা আত্মসাত করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানাননি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ব্যাংকটির তথ্য প্রযুক্তি ও আইটি শাখার কর্মকর্তা নাজির হোসেন ওরফে সোহেল ১৫ দিনের ছুটির দরখাস্ত দিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
তবে, তদন্তে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকার উপরে আত্মসাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ব্যাংকটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, খালেদ নামের অপর কর্মকর্তা ব্যাংকের ৪২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত খালেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। কিন্তু খালেদ এসব টাকা ব্যাংকে জমা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ বছর ধরে ওই শাখায় আইটি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাজির হোসেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি ওই শাখার অভ্যন্তরীণ তহবিলের হিসেব থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। এ ঘটনাটি বহুদিন ধরে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিককালে অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে অডিট শুরু হলে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাকা আত্মসাতের মূল হোতা নাজির হোসেন ওরফে সোহেলের বাড়ি রাজশাহীর মহানগরীর বহরমপুর ব্যাংকপাড়া এলাকায়। তিনি সম্প্রতি ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেছেন। এছাড়াও তিনি একটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেটকার কিনেছেন।
এদিকে, ব্যাংকটির অপর একটি সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, সোনালী ব্যাংক তানোর শাখা থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকটির আরো একাধিক কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। আর এ কারণেই বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিষয়গুলো নিয়ে সোমবার সকালে সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখার ব্যবস্থাপক জিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, প্রধান কার্যালয় থেকে আসা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। আরো একটি তদন্ত দল আসার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জানা যাবে কত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
শাহরিয়ার অনতু/এমজেড/পিআর