সড়ক-মহাসড়ক অধিক নিরাপদ করতে কাজ করছি আমরা : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক যাতে অধিক নিরাপদ হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কিছুদিনের মধ্যেই জনগণ এর সুফল পাবে। যেসব মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে সেগুলোর পাশে আলাদা সার্ভিস লেন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাইওয়তে দ্রুতযান চলবে। স্থানীয় জনগণ যাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারে আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়ে চার লেনের সড়কের পাশে আলাদা লেন করছি, যাতে লোকাল যানবাহন চলাচল করতে পারে। রেললাইন যেখানে সেখানে প্রয়োজনে ওভারপাস এবং আন্ডারপাস করে দিচ্ছি।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফততরের অধীন, ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী জেলায় ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। ভিডিও ত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্র-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চাল লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এ উন্নয়নের ছোঁয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পাবে।

তিনি বলেন, এখন থেকে যতগুলো কাজ হচ্ছে (সড়ক-মহাসড়ক) তার পাশে আলাদা লেন করা হচ্ছে। সেগুলোতে স্থানীয় যানবাহন চলবে। যাতে ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নের যোগাযোগ করা যায়। যোগাযোগ যাতে আরও উন্নত করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যমুনা-বঙ্গবন্ধু সেতু করার সময় আমরা পাশে রিকশা-ভ্যান বা ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য লেন করেছিলাম। এসব রাস্তা করতে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে। আমাদের সেনাবাহিনীর ৩৪ ও ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশান ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এবং কম খরচে এসব কাজ করেছে।

তিনি বলেন, এই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি দ্বার উন্মোচিত হলো। আর এই ধারা তিনি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বলেছিলেন আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতা। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ না দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

বিএনপির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। যখন তারা দেখতে পারল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষের অর্থনীতির পরিবর্তন হচ্ছে তখনই তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আঘাত হানল। এ আঘাত যে শুধু দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করলো তা না, একটি পরিবারকে শেষ করে দিল। তারা আমার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইকেও হত্যা করল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এ রক্তের কেউ যাতে নেতৃত্বে না আসতে পারে।

একটা দিনে আমি আর আমার ছোটবোন (শেখ রেহানা) সবই হারালাম। মা, বাবা ভাই নাই, আমরা এতিম হয়ে গেলাম। আমাদের ঘর নাই বাড়ি নাই। ছয়টি বছর দেশে আসতে পারি নাই। আওয়ামী লীগ আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। অনেক বাধাবিঘ্ন ফেরিয়ে দেশে আসি কিন্তু আমাকে ৩২ নম্বরের বাড়ি ডুকতে দেয়া হয়নি। ওই ভবনে গিয়ে দোয়া করার অধিকার আমার ছিল না। হত্যাকারীদের বিচার না করে ইনডেমনিটি দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়া হয়েছিল। আমি রিক্ত, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছিলাম। দেশে এসে সারাদেশ ঘুরেছি, পেয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসা। আর আমাদের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজনহারা বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনো সহজ না, আমি জানি। বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল কিন্তু আমি পিছিয়ে যায়নি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যা যা চেষ্টা করার দরকার তাই চালিয়ে যাচ্ছি।

এফএইচএস/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :