অর্থমন্ত্রীকে কনসালটেন্সির কাজ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৯

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মনোনিবেশ করেছিলেন, তখন তিনি দেশি শক্তি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তখন একটি জার্মান কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব এলে বঙ্গবন্ধু তা না করে দেন এবং দেশি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার নির্দেশ দেন। আর সেই কাজ পেয়েছিলেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় কনসালটেন্সির কাজ দেয়ার বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন অর্থমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘একদিনের ঘটনা বলি। আমরা অপেক্ষা করছিলাম বঙ্গবন্ধুর জন্য। বঙ্গবন্ধুর জন্য আরেকজন সরকারি কর্মকর্তা আমার আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। তার হাতে একটি ফাইল। বঙ্গবন্ধু এসেই বললেন, আপনি কী নিয়ে আসছেন? ওই কর্মকর্তা বললেন, একটি ফাইল নিয়ে আসছি, বিশ্বব্যাংকের ফাইল। ফাইলে বিশ্বব্যাংক একটি কনসালট্যান্টের নাম উল্লেখ করেছে। তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং স্টাডি করবে। বঙ্গবন্ধু জানতে চাইলেন বিশ্বব্যাংক কার নাম বলেছে। ওই কর্মকর্তা জানান, একটা জার্মান কোম্পানির নাম বলা হয়েছে। কোম্পানিটির নাম এগ্রো প্রোগ্রেস জেএমবিএইচ। বঙ্গবন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বলে দিলেন, না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক একটি কনসালট্যান্টের নাম দেবে, এটা তো মানতে পারি না। এটি আমাদের প্রকল্প। তারা একটি কনসালট্যান্ট দিলে আমরা আরেকটি কানসালট্যান্ট দেব। যে কনসালট্যান্টের নাম দিয়েছে, সে তো কাজ নাও করতে পারে। কাজটি তো আমাদের করতে হবে। সেজন্য আমরাও আমাদের একটি দেশি কনসালট্যান্টকে দেব।’

‘সে সময় রেশন কার্ড ছিল। প্রতি সের গম বা চালের জন্য কত টাকা দাম দেব, সেটা নির্ধারণ করার জন্য এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল। সেটির নাম ছিল ‘ফুড প্রকিউরমেন্ট রেশনিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কিন্তু আমাকে কাজ দেয়ার জন্য বলেননি। কোনোভাবে ডিরেক্ট কিংবা ইনডিরেক্ট আমাকে মিন করেননি। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওই উপ-সচিব ভাবলেন, বঙ্গবন্ধু হয়তো পরোক্ষভাবে আমার নাম বলেছেন। তিনি এসে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। শেষ পর্যন্ত আমি কাজটি পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু থেকে এই পুরস্কার আমি সারাজীবন মনে রাখব। উপহারস্বরূপ আমি এটাকে নিয়েছি।’

কম বয়সে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে নিজের কষ্ট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নাই। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন গ্রিক রূপকথার যে ফিনিক্স পাখির মতো। ফিনিক্স পাখিরা মরে না। একটি ফিনিক্স পাখি যখন হাজার বছরের কাছাকাছি চলে আসে, তখন সে নিজে একটা ঘর বাঁধে। ঘর বেঁধে সে তার ঘরে ঢুকে যায়। পরে নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘুরের আগুনে সে আত্মাহুতি দেয়। ওখান থেকে যে ছাই-ভস্ম হয়, তা থেকে আরেকটি ফিনিক্স পাখির জন্ম হয়। সেই ফিনিক্স পাখিটিও একইভাবে হাজার বছর বেঁচে থাকে। হাজার বছর পর সেই ফিনিক্স পাখি আবার ঘর তৈরি করে আত্মাহুতি দেয়। সেখান থেকে আরেকটা ফিনিক্স পাখির জন্ম হয়। এভাবে চলতে থাকে। এ জন্য বলা হয়, ফিনিক্স পাখিদের কখনও মৃত্যু হয় না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পিডি/জেডএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।