সন্তু লারমার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নাগরিক পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সরকারি সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। তবে এ সময়ের মধ্যে তার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ প্রশ্ন তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক দশমাংশ। পুরো দেশের দশভাগের এই একভাগের দায়িত্ব নিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ২৩ বছর ধরে সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন সন্তু লারমা। কিন্তু এ সময়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, এ বিষয়ে আমরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন পাই না।’

এ সময় পার্বত্য চুক্তির রেফারেন্স তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে চুক্তিতে সাক্ষর করেছিলেন। তিনি কোনো একক গোষ্ঠীর পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেননি। কিন্তু গত ২৩ বছরে তিনি কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন, কার হয়ে কথা বলছেন তা সবাই ভালো করেই জানে।

তারা দাবি করেন, সন্তু লারমা কখনো শহীদ মিনারে ভোট দিতে যান না। তার বাংলাদেশের কোনো জাতীয় পরিচয় পত্র নেই। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূইঁয়া বলেন, আজ উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা গণমাধ্যমে এসে বলছে- তাদের জোর করে অস্ত্র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে সন্তু লারমা সরকারি সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র কীভাবে ধরে? আমার মতে এই মুহূর্তে তাকে অপসারণের পর গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

অরক্ষিত বাংলাদেশের সীমান্ত :

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানা জুড়ে ১৭৬ কিলোমিটার যে জায়গা তা বর্তমানে অরক্ষিত। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো তাদের (উপজাতীয় সন্ত্রাসী) চারটি গ্রুপ নিজেদের ক্যাম্প করছে এবং ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত জুড়ে হচ্ছে ট্রেনিং সেন্টার।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অরক্ষিত ১৭৬ কিলোমিটার জায়গাতে রাস্তা তৈরি করে সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে যদি বিজিবি মোতায়েন করা হয় তাহলেই বাংলাদেশ সুরক্ষিত হবে। সন্ত্রাসীদের যে দুঃস্বপ্ন, তা ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, সিনিয়র-যুগ্ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলম খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদের সভাপতি সালমা আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি শাহাদাত ফারাজী।

এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]