নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখছে ‘নগদ’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৮ এএম, ০৮ মার্চ ২০২১

আটবছর বয়সী সন্তানের মা পূর্ণিমা মণ্ডল। সুন্দরবন লাগোয়া গ্রাম বাবুর বাড়ির মানুষের মাঝে তিনিই ছড়িয়েছেন ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা। এক্ষেত্রে ‘নগদ’ হয়েছে তার মাধ্যম। ‘নগদ’ এর মাধ্যমে বদলেছেন নিজের ভাগ্যও।

দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ যাত্রা শুরু হয়। সেসময়ে ‘নগদ’ নিয়ে নেমে পড়েন পূর্ণিমা। নিজের ভাগ্য নিজ হাতে গড়ার অনন্য এক উদহারণ তৈরি করেছেন ২৯ বছরের পূর্ণিমা।

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হলে তার পাশেই মোবাইল রিচার্জের দোকান নেন পূর্ণিমা। এরপর সেখানে যুক্ত হয় ‘নগদ’। পূর্ণিমার মাধ্যমেই এলাকায় ‘নগদ’ এর পরিচিতিও বেড়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে পূর্ণিমা বলেন, ওই এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজে নিয়োজিত কর্মী ও শ্রমিকদের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘নগদ’ এর সেবা খুব কাজে দিয়েছে। তাছাড়া এলাকার মৎস্যজীবীদেরও ‘নগদ’ এর লেনদেনে দিয়েছে বাড়তি সুবিধা। ঢাকা বা বড় শহরে পণ্য পাঠিয়ে সবচেয়ে কম খরচে টাকা পাওয়ার জন্যেও ‘নগদ’ এই এলাকায় খুবই জনপ্রিয়।

তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় ‘নগদ’ এর জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এর সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জ ও ফ্রি সেন্ড মানি। যার কারণে শ্রমজীবী মানুষ এবং স্বল্প আয়ের মানুষেরা নগদকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

পূর্ণিমা বলেন, শুরুর দিকে কাজটি মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু এখন এই এলাকার মানুষের হাতে হাতে ‘নগদ’ উঠে এসেছে। পূর্ণিমার ভাষায়, ‘এই ব্যবসার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে ডিজিটাল সার্ভিস পৌঁছে দেয়ার কাজ করছি আমি, যা আমার কাছে খুবই ভালো লাগার একটি বিষয়।’

পূর্ণিমা এখন শুধু ‘নগদ’ এর মাধ্যমে মাসে ২৫ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেন। যার মধ্যে সরকারের বিভিন্ন ভাতাভোগীরা আছেন। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে সরকারের দেয়া উপবৃত্তির টাকাও মানুষ ‘নগদ’ এর মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছেন। পূর্ণিমার মতো আরও প্রায় শতাধিক নারী উদ্যোক্তা ‘নগদ’ এর মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষদেরকে আর্থিক খাতের ডিজিটাল সেবা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রথমদিকে একটু অস্বস্তি লাগত। মানুষ কী মনে করবে, এটা নিয়ে চিন্তা করতাম। কিন্তু যখন ‘নগদ’ এর সহায়তায় আমার ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেল, তখন আত্মবিশ্বাসও বাড়ল। মাঝে মাঝে আমি আমার নিজের কাজ নিয়ে গর্ববোধ করি। আমাকে সম্মানিত করা এবং আমার এলাকায় ডিজিটাল সেবার প্রসারের জন্যে নগদকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’

শুধু পূর্ণিমার নিজের বা রামপালের বাবুর বাড়ি গ্রাম নয়, এভাবে সারা দেশের অসংখ্য মানুষের জীবনগল্পে ডিজিটাল সেবা জড়িয়ে ফেলার পেছনে ‘নগদ’ ভূমিকা রাখছে। আর অসংখ্যা পূর্ণিমার সহযোগিতায় দুই বছরের কম সময়ে ‘নগদ’ তিন কোটি গ্রাহকের পরিবারে পরিণত হয়েছে। যেখানে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।

jagonews24.com

‘নগদ’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘সারাদেশের সব ধরনের মানুষের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছি আমরা। এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি আমরা একটু বেশিই খেয়াল রাখতে চাই।’

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। নারীদের জন্য ডিজিটাল ব্যবসায় সমান অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা এবং সকলের জন্যে ডিজিটাল লাইফস্টাইল নিশ্চিত করতে ‘নগদ’ ক্রেতা-বিক্রেতা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় কিছু সুবিধা প্রদান করছে।

৩০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বর্তমানে ‘নগদ’ দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটর হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের মধ্যেই বাজারের ৫০ শতাংশে ‘নগদ’ এর হাতে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।

অ্যাকাউন্ট খোলার সহজ পদ্ধতি

পূর্ণিমার মতে ‘নগদ’ এ অ্যাকাউন্ট খোলা সবচেয়ে সহজ। একজন ব্যক্তি ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে শুধু *১৬৭# ডায়াল করে চার ডিজিটের পিন সেট করলে মুহূর্তেই খুলে যায় ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট।

পূর্ণিমা বলেন, ‘*১৬৭# ডায়াল করে তাৎক্ষনিকভাবে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি ‘নগদ’-এর প্রসারে বড় ভূমিকা রাখছে।’ বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার নতুন গ্রাহক ‘নগদ’ এ যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

নম্বর প্রকাশ না করে ক্যাশ-ইন সুবিধা

যে কোনো গ্রাহক চাইলে ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে ‘নগদ’ এ টাকা আনতে পারবেন। এছাড়া ‘নগদ’ এর ইউনিক ভার্চুয়াল কার্ড নম্বর দিয়েও একজন গ্রাহক টাকা ক্যাশ-ইন করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে, নারীদের জন্যে বিশেষ প্রয়োজনীয়।

প্রতিটি ‘নগদ’ নম্বরে ১৬ সংখ্যার একটি ভার্চুয়াল কার্ড নম্বর রয়েছে, যা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তার সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন। নারীদের হেনস্তা থেকে বাঁচতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর এক পদ্ধতি।

এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]