আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ না করার দাবি বায়রার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

করোনা মহামারি রোধে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ চলাকালে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ফ্লাইট বন্ধ না করার দাবি জানিয়েছে বায়রা।

মহামারির এই সময়ে বিদেশগামী কর্মীদের কথা বিবেচনায় এনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ না করে বরং জনশক্তি প্রেরণের এই খাতকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনায় এনে সকল প্রকার বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রেখে এই খাতকে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাবেক অর্থ সচিব ফখরুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন গত ১১ এপ্রিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেচিক) আর্ন্তজাতিক বিমান চলাচল বন্ধ ঘােষণা করেছে। ফলে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মুহূর্তে প্রায় ২০-৩০ হাজার কর্মী অধিক মূল্যে বিমান টিকিট সংগ্রহ করেছে এবং হাজার হাজার বিদেশগামী কর্মী টিকিটের অপেক্ষায় আছে। ফলে হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় সবাই উৎকণ্ঠা ও হতাশায় নিমজ্জিত। বিজিএমই করোনা মহামারিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা চালু রাখতে পারলে জনশক্তি রফতানির এই খাতকেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ সকল কার্যক্রম চালু রাখার সুযােগ দেয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সকল ফ্লাইট বন্ধ করা হলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীগণ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের দেশ। হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হলে কাতার এবং ওমানের হাজার হাজার যাত্রী লাখ লাখ টাকা দিয়ে কোয়ারেন্টাইন হােটেল বুকিং করে রেখেছে, যেগুলাে নন রিফান্ডেবল। এতে তাদের বড় অংকের লােকসান গুনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে লকডাউনে হাজার হাজার প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের অনেকেই আবার নতুন করে বিদেশ গমনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুধুমাত্র ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে। তারা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লকডাউনের এই ৭ দিনে প্রায় ২০,০০০ শ্রমিক সৌদি, দুবাই, ওমান, কাতার যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমান টিকিট করে থাকেন। যার প্রতিটি টিকেট উচ্চমূল্যে (৮০-৯০ হাজার টাকা) ক্রয়করে ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে। সবকিছু বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী কর্মী প্রেরণের নিমিত্তে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখা উচিত। অন্যথায় বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাত শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনসহ কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলাে লকডাউনের মধ্যেও জরুরি খাত হিসেবে বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণ করছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণ করা বন্ধ হলে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযােগিতা থেকে পিছিয়ে যাবে। অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, আবার অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ দ্বিতীয়বার শেষ হবে। সময়মতো না যেতে পারলে নিয়ােগকর্তা চাহিদাপত্র বাতিল করতে পারে। পরিস্থিতি যাই হােক, যতদিন পর্যন্ত কর্মী গ্রহণকারী দেশসমূহ, বিশেষকরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশের সাথে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরােপ না করবে অন্তত ততদিন দেশের স্বার্থে বিদেশগামী কর্মীদের লকডাউনের আওতার বাইরে রেখে বিদেশ গমনে সুযােগ করে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এইচএস/এমএইআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]