‘কমিশনার পদে সুপারিশকৃতদের নাম যেন আগেই প্রকাশ করা হয়’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটি যে ১০ জনের নাম সুপারিশ করবে, তা আগেই প্রকাশের মতামত জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সার্চ কমিটির সঙ্গে বিশিষ্ট নাগরিকদের বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘বৈঠকে সবাই কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। সবারই বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশনে যারা সুযোগ পাবেন, তারা যেন আগে কোনো সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধাভোগী না হন। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শতভাগ আস্থা রাখতে পারছি না। সরকারের সঙ্গে আগে যতবার আলোচনায় বসেছি, তারা কখনও কথা রাখেনি। আমরা বলেছি—যে ১০ জনের নাম সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে, তাদের নাম যেন আগেই প্রকাশ করা হয়। তারপর হয়তো আস্থা-অনাস্থার বিষয়টি আসবে।’
তিনি বলেন, ‘যাদেরকে সিলেক্ট (বাছাই) করা হবে, তাদের বিষয়ে যদি কারও জানা থাকে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সাপোর্ট করেছেন অথবা কোনো টকশোতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অথবা বিপক্ষে কথা বলেছেন। তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে এবং দাবি জানাতে পারবে তাদেরকে যাতে বাদ দেওয়া হয়।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনারা জানেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে, সুপারসিট করার মাধ্যমে, চাকরির সময় বৃদ্ধির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকার অনেক সময় অনেকের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে। যারা রিটায়ার্ডের (অবসর) পর কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়েছেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা যেন নির্বাচন কমিশনে না আসেন। নির্বাচন কমিশনে যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের যেন সুষ্ঠু নির্বাচন করার মানসিকতা, সাহস ও ব্যক্তিত্ব থাকে।’
সুনির্দিষ্ট কারও নাম প্রস্তাব করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কারও নাম দেওয়া হয়নি। আমরা শুধু বলেছি, কোন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের মতো জায়গা নিয়োগ দেওয়া উচিত। আর কীসের ভিত্তিতে কাউকে কমিশনে নেওয়া উচিত না।’
এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের সেমিনার কক্ষে বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে প্রথম ধাপে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ২০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত হন ১৪ জন।
‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুসারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে গত ৫ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—হাইকোর্টের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
আইন অনুযায়ী কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পেশ করতে হবে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। নবগঠিত সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।
এফএইচ/এএএইচ/এমএস