ল্যাম্পপোস্ট ভাঙা পিকনিকের বাসকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা চসিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

দুর্ঘটনায় পড়ে দুইটি ল্যাম্পপোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় দুর্ঘটনাকবলিত একটি বাস থেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বাসটি শরীয়তপুর থেকে কক্সবাজারে পিকনিকে যাচ্ছিল।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুর্ঘটনা ঘটলেও রাত ১১টায় ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের পর বাসটি থানা থেকে ছাড়া হয়। এরপর রাতেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন পিকনিকের যাত্রীরা। তবে, বাসের কোনো যাত্রীকে ওইসময় আটক করা হয়নি এবং বাসটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীও ছিল না বলে দাবি করেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ওসি আবদুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, শরীয়তপুর জেলা থেকে কিছু লোক বাসে করে কক্সবাজার যাচ্ছিল। শনিবার ভোরে বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকার সামনে বাসটি ডিভাইডারে তুলে দেয় চালক। এসময় ডিভাইডারে লেগে চাকা পাংচার হয়ে যায়। এসময় বাসটি রাস্তার সড়ক বাতির পোলে আঘাত করে। এতে দুইটি পোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় বাকলিয়ার টহল দল ঘটনাস্থলে ছিল। রাস্তাটি সড়কের মধ্যখানে থাকায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। তখন ক্রেন দিয়ে বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই বাসের কোনো যাত্রী আহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বাসের যাত্রীদের অন্য গাড়িতে করে কক্সবাজার চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু যাত্রীরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি নিয়ে কক্সবাজার যেতে চায়।

ওসি বলেন, রোববার আমি সারাদিন মিটিংয়ে ছিলাম। মিটিং থেকে ফিরে সন্ধ্যায় আমার স্যার ফোন করে বললেন, ‘কাউকে আটক রাখছো নাকি? ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলেপিলে? আমি বললাম- নাতো স্যার। খুব সম্ভব শাকিল নামের একজন ছেলে (বাসটির যাত্রী), সে-ই সবাইকে মিসগাইড করছিল। ও-ই ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র নয়। ওই বাসে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কোনো ছাত্রই ছিল না। শাকিল নামে ওই ছেলের সঙ্গে ইউনিভার্সিটির কোন বড় ভাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে। ওইখান থেকে সবাইকে ফোন দেওয়ানো হচ্ছিল। আমি স্যারকে (কমিশনার) বললাম- স্যার বাসের কাউকে আটক করা হয়নি। ওরা ২৩ জন। অন্য বাসে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তার যাননি।’

ওসি বলেন, ‘দুপুরে তারা খাবার না খাওয়ায় পুলিশের কেন্টিন থেকে ডাল ডিম দিয়ে সবাইকে ভাতও খাওয়ানো হয়েছিল। পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিতে পোল নষ্ট হওয়ায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন। ল্যাম্পপোস্টগুলো জাইকার একটি প্রজেক্ট থেকে বসানো হয়েছে। এখনো সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তরও করা হয়নি বলে জানানো হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা নিজেরাই সমঝোতা করার চেষ্টা করেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আমরা বললাম, ক্ষতিপূরণ দিলে বাসের মালিক কিংবা ড্রাইবার দেবেন। যাত্রীরা দেবেন কেন? যাত্রীদের কাছে অত টাকাও না থাকতে পারে। তারপরেও যাত্রীরা সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ৮০ হাজার টাকায় আপস করে ফেলেন। পরে বাসটি করে চলে যায়। আমরা এরমধ্যে কোনো যাত্রীকে আটক করিনি।’

ইকবাল হোসেন/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।