প্রকল্পে দুর্নীতি: বিটিসিএল এমডিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক নারগিস সুলতানা।

যদিও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান রফিকুল মতিন। সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেননি তিনি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দেশের সর্বত্র ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পে অনিয়ম, কারসাজি ও বারবার দরপত্র ডাকার ঘটনায় অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায় ‘ডিজিটাল কানেক্টিভিটি শক্তিশালীকরণে সুইচিং ও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (এসটিএন)’ প্রকল্প। তখন দরপত্র দলিল ও দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তুতের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ অনিয়ম ও নিয়মবিধি লঙ্ঘন করেছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।

প্রকল্পে কাজের জন্য ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। সাত সদ্যস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে এক্স-ফারকে একমাত্র যোগ্য ও সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে পুনঃদরপত্র আহ্বান কেন্দ্র করে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়।

মূল্যায়ন কমিটিতে থাকা বিটিসিএলসহ সরকারি কর্মকর্তারা পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করেন।

পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠা নম্বর হাতে কেটে অতিরিক্ত দুই পাতা সংযোজন করেন তারা। কাটছাঁটের বিষয়টি গোপন করতে বোর্ডসভায় মূল্যায়ন প্রতিবেদন ছাড়া শুধু কার্যপত্র উপস্থাপন করা হয়। সভায় বহিঃসদস্যরা দরপত্র বাতিলের বিপক্ষে ও বিটিসিএলসহ সরকারি কর্মকর্তারা বাতিলের পক্ষে মত দেন। পরের বোর্ডসভায় দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এসব ক্ষেত্রে ক্রয় আইন, বিধি ও দরপত্র দলিলের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। এরপর দরপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে একমাত্র যোগ্য প্রতিষ্ঠানটি।

আরও জানা যায়, আপিল নিষ্পত্তির আগেই গত বছরের নভেম্বরে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে বিটিসিএল। পুনঃদরপত্রের ভিত্তিতে জিটিইকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সেটিও বাতিল করে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। এসবের ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে প্রকল্প।

এসএম/এমকেআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।