নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলায় ভালো কলামিস্ট খুঁজছে সরকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাংলাদেশবিরোধী নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রচারণা চালাতে ভালো সম্মানী দিয়ে আর্টিকেল (কলাম) লেখায় উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ভালো কলামিস্ট খুঁজছে মন্ত্রণালয়। ভালো কলামিস্টদের সন্ধান থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের কাছে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এছাড়া নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধ ও ইতিবাচক প্রচারণার জন্য মন্ত্রণালয় নতুন একটি শাখাও খুলছে। মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের আওতায় ‘অভিবাসী কূটনীতি’ নামে একটি অধিশাখা সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩০তম বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিটির আগের বৈঠকে বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক প্রচারণার বিষয় আলোচনা হয় এবং এগুলো বন্ধে মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে এসব কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি আলাদা সেল গঠনেরও কথা বলা হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী/অভিবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মিডিয়ায় তাদের সরব উপস্থিতি ও দেশবিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য, বক্তব্য ও প্রচারের জন্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তবে স্বাগতিক দেশের (তারা যে দেশে অবস্থান করছেন) নানা আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়। পাশাপশি মন্ত্রণালয়ে নতুন অধিশাখা সৃষ্টির কথাও বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো বিশ্ববাসীর কাছে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ বিরোধী নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগে ‘অভিবাসী কূটনীতি’ নামে একটি অধিশাখা সৃষ্টি করে একজন পরিচালকসহ দুইজন সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগসহ অন্যান্য অংশীজনের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন আগের বৈঠকে বলেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দাকে পুঁজি করে সরকারবিরোধীরা দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করে এমন কোনো কলাম কারও কাছে থাকলে তা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করলে সেটি বিভিন্ন মিশনে প্রচারের কথা বলেন সিনিয়র সচিব।

কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, ইদানিং দেশের বাইরে বিভিন্ন ডায়াসফোরগুলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা করে যাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলায় মিশনগুলোর জোরালো ভূমিকা পালন করা উচিত।

ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে কলাম লেখার মতো দক্ষ জনবল না থাকায় সম্মানী দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কলামিস্টদের দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক আর্টিকেল লেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভালো আর্টিকেল লেখার মতো কলামিস্টের সংখ্যা খুব কম। আগামী দেড় বছর বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিগুলো সোচ্চারভাবে সমালোচনায় মেতে উঠতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী ভালো কোনো কলামিস্টের সন্ধান থাকলে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে কমিটির সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক, খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, মো. হাবিবে মিল্লাত, নাহিম রাজ্জাক ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশ নেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভুটানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএস/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।