২৫ বছরপূর্তি

নানা আয়োজনে বাঁধনের মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২২

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ‘বাঁধন’ এর ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। গল্প, আড্ডার সাথে বস্তাবন্দি দৌড়, চেয়ার দখল, বাচ্চাদের বিস্কিট দৌড়, অঙ্ক মেলানো, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনে মেতে ওঠেন বাঁধন কর্মীরা। এতে সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ২ হাজার কর্মীরা অংশ নেয়।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

বাঁধন এর উদ্যোক্তা শাহিদুল ইসলাম রিপন জাগো নিউজকে বলেন, বাঁধনের রজতজয়ন্তীর মিলনমেলায় এসে আমি অভিভূত। ২৫ বছর আগে আমরা এ সংগঠনটি শুরু করেছিলাম মূলত মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য। আমি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বাবার রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল। আমার এক আত্মীয় তাকে রক্ত দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মানুষের প্রতি আমার একটা দায়বোধ কাজ করছে, যে রক্ত দেওয়া উচিত এবং রক্ত দিলে মানুষের উপকার হয়। সেই জায়গা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যখন ঢাকা মেডিকেলে রক্তের জন্য মানুষ শহীদুল্লাহ হলে আসে, তখন তাদের সহযোগিতা করতে গিয়েই বাঁধন এর যাত্রা শুরু হয়। সেই চিন্তা থেকেই আজকে অনেক লোক অনেক বাঁধন কর্মী তাদের নানা সৃজনশীলতার মধ্যদিয়ে দেশের ৫৩ টি জেলায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন পেশাদার রক্তদাতাদের অনেকটাই নির্মুল করা গেছে। ২৫ বছরে বাঁধন মূললক্ষ্যে পৌঁছাতে সঠিক পথেই আছে।

২৫ বছরপূর্তিতে বছরব্যাপী নানা আয়োজন করেছে সংগঠনটি। বাঁধন এর রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এস এম কোরবান আলী বলেন, রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা বেশকিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম। রজতজয়ন্তীর মিলনমেলার মাধ্যমে ২৫ বছরের নানা আয়োজন শেষ হচ্ছে। আজকের এ মিলনমেলায় সারাদেশের সাবেক ও বর্তমান বাঁধন কর্মীরা একত্রিত হয়েছে। দেশের ৫৩ টি জেলায় ৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁধন কর্মীরা কাজ করছে। সংগঠনটি স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, বাঁধন আজ তার রজতজয়ন্তীর মিলনমেলার উদযাপন করছে। এ রজতজয়ন্তীর মিলনমেলায় দেশের প্রত্যেকটি ইউনিট থেকে বাঁধনকর্মীরা এসেছেন। এ রজতজয়ন্তী উদযাপনের মাধ্যমে আমরা বাঁধনকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে চাই, যাতে মানুষের সেবায় বাঁধনকর্মীরা এগিয়ে আসতে পারে।

বাঁধন এর সাবেক সভাপতি আলীমুজ্জামান আলিম বলেন, বাঁধন ২৫ বছরে একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। বাঁধন রক্তদানের যে প্রেরণা তা দিতে পেরেছে। রক্ত দিতে হয় এর কোনো বিকল্প নেই। মানুষের মধ্যে এ বিষয়টি ছড়িয়ে দিতে পেরেছে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে বাঁধনের যাত্রা শুরু হয়। গত ২৫ বছরে ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত এ সংগঠনটি দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ বছরে ‘বাঁধন’ ৯ লাখ ৭৭ হাজার ব্যাগ রক্ত বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

আরএসএম/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।