জানুয়ারিতে সার্ভেয়ার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
জানুয়ারির মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা বিভাগে সার্ভেয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমি সচিব মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ www.facebook.com/minland.gov.bd থেকে ‘মিট দ্য সেক্রেটারি’ শিরোনামে ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। লাইভটির দর্শকরা কমেন্ট বা চ্যাটের মাধ্যমে ভূমি সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের ভূমি সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছে লাইভে।
সচিব আরও জানান, সার্ভেয়ারদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খালেদ হাসান মণ্ডল নামের এক প্রশ্নকর্তার উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দপ্তর বলতে কালেক্টরেট (ডিসি অফিস), উপজেলা ভূমি অফিস (এসিল্যান্ড অফিস) ইত্যাদি দপ্তর বোঝায়।
প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সচিব ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনার সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব তথা দেশের শীর্ষ ভূমি কর্মকর্তা কর্তৃক প্রথমবারের মত নাগরিকের সঙ্গে এমন উন্মুক্ত ফোরামে সরাসরি অংশগ্রহণ সরকারি নাগরিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নাগরিক ভূমিসেবা আরও স্মার্ট করে মাল্টি-চ্যানেল ভিত্তিক নাগরিক সেবা (কাস্টমার সার্ভিস) দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেসবুক লাইভ এসব বহুমুখী উদ্যোগের অন্যতম অংশ। পরবর্তী সময়ে ভূমি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ ভূমি কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে নিয়মিত লাইভে অংশ নিয়ে নাগরিকদের ভূমি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
লাইভে মোহাম্মেদ বাবরের প্রশ্নের উত্তরে সচিব জানান, জমির ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ হয় জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণির উপর। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, অন্যকোনো শ্রেণির জমির উপর আবাসিক বাড়ি তৈরি করলে, উক্ত ভূমির এলডি ট্যাক্স আবাসিক শ্রেণিতেই গ্রহণ করা হয়, কাগজেকলমে যে শ্রেণি আছে সেই অনুযায়ী নয়। জেলা প্রশাসকের কাছে এর ক্ষমতা দেওয়া আছে। সচিব সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে জানান, নামজারি করার ক্ষেত্রে দলিলের সনের উপর কোনো বিধি-নিষেধ নেই। আগের যেকোনো তারিখে করা দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করা যাবে।
মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সিএস মৌজা ম্যাপ গ্রহণ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, land.gov.bd পোর্টালে আবেদন করে কিংবা ১৬১২২ তে কল করে ডাকবিভাগের মাধ্যমে ঘরে বসেই মৌজা ম্যাপের স্ক্যান কপি পাওয়া যাবে। ম্যাপ সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নকর্তার জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি সচিব জানান, ম্যাপ ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে। আগামী মার্চ মাসে ২০ হাজার ডিজিটাইজ মৌজা ম্যাপ অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সব ম্যাপ আপলোড করা হবে। তখন ফি এর বিনিময়ে এই ম্যাপ পাওয়া যাবে।
কুয়েত প্রবাসী মো. ফারুক ভূমি অফিসের কর্মরত ব্যক্তিকে টাকা দিয়েও খতিয়ান সংশোধনে ভূমি অফিসের হয়রানির কথা বললে সচিব জানান, ভূমি অফিসের কোনো গণকর্মচারীর সঙ্গে কোনো ধরনের সেবার জন্য আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। অনলাইনে নিজে কিংবা নিকট আত্মীয়স্বজন বা ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডারের সাহায্যে আবেদন করে খুব সহজেই অনলাইনে খতিয়ান সংশোধন করার আবেদন করার যাবে। এসিল্যান্ড খুব দ্রুত সংশোধন করে দেবে। প্রয়োজনে ১৬১২২ তে কল করার পরামর্শ দেন ভূমি সচিব।
আরএমএম/জেএইচ/এএসএম