সায়েন্সল্যাবের বিস্ফোরণ মগবাজারের মতোই: বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
২০২১ সালের ২৭ জুন রাজধানীর মগবাজারে জমে থাকা গ্যাসের ফলে ঘটে বিস্ফোরণ। আজ (রোববার) রাজধানীর সায়েন্সল্যাবের তিনতলা ভবনে ঘটা বিস্ফোরণও একই রকম বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
মগবাজারের বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১২ জনের। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠেছিল। বেশ কয়েকটি ভবনের জানালার কাচও ভেঙে যায়। আজ সায়েন্সল্যাবের বিস্ফোরণেও কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ১৫ জন আহত। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
রোববার (৫ মার্চ) সাইন্সল্যাবের বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের ইনচার্জ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রহমত উল্লাহ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সায়েন্সল্যাবে বিস্ফোরণ: কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকাও
তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সায়েন্সল্যাবে বিস্ফোরণ মগবাজারের বিস্ফোরণের মতোই গ্যাস থেকে সৃষ্ট একটি বিস্ফোরণ। ভবনটিতে কোনো না কোনোভাবে গ্যাস জমে ছিল। জমে থাকা গ্যাসের ঘন মাত্রা যদি ৫-১১ মাত্রার হয়, এইটা যদি ট্রিগার হয়, তাহলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
‘এই ট্রিগার সুইচের মাধ্যমে, ফ্যানের সুইচ ও এসির সুইচের মাধ্যমেও হতে পারে। এটা গ্যাস থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণ হতে পারে। আর এত বড় বিস্ফোরণ গ্যাস থেকে সৃষ্টি হয়।’
এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে আমাদের নগরবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। দরজা জানালা খুলে আগে গ্যাস বের করতে হবে। এরপর চুলা অথবা ইলেক্ট্রিক সুইচ দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ৯ ঘণ্টা পর মগবাজার বিস্ফোরণস্থল থেকে বন্ধ হলো গ্যাস লিকেজ
বিস্ফোরণের ঘটনা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ঘটেছে, সেখানে কীভাবে গ্যাস জমে ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে যে কোনোভাবে গ্যাস জমা হয়ে থাকতে পারে। সেটা সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমেও হতে পারে।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সায়েন্সল্যাবের একটি ভবনের তিনতলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভবনটির তৃতীয়তলায় ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অফিসে মূলত বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এমন ছিল যে, পাশের একটি ১৪তলা আবাসিক ভবন কেঁপে ওঠে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভবনটির বাসিন্দারা।
টিটি/এমএইচআর/জিকেএস