অপরিপক্ব লোকের হাতে মোটরসাইকেল চলে গেছে: সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪১ পিএম, ২২ মার্চ ২০২৩

দেশে ‘অপরিপক্ব’ লোকের হাতে মোটরসাইকেল চলে গেছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। বুধবার (২২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় সেতুসচিব মনজুর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে বলতে গিয়ে সচিব বলেন, অপরিপক্ব লোকের হাতে মোটরসাইকেল চলে গেছে। ৪০ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে মানুষ। আমরা নীতিমালা করছি। কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা চাই, রাস্তায় গাড়ি নিরাপদে চলুক। গাড়ির মালিক, পথচারী সবাইকে সতর্ক হতে হবে।

আরও পড়ুন: রাতে মোটরসাইকেল চালাতে যা মানা জরুরি

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি ২০১০ ও ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান দেখি, তাহলে খেয়াল করবো আমাদের সড়ক ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনেক সময় গাড়ি লুকিয়ে রাখা হয়। দেখবেন, অফিসের সময় গাড়ি কম চলে। যখন বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকে না, তখন তারা গাড়িগুলো বের করে। এনিয়ে পুলিশ, এনজিওসহ কাজ করছি।

এসময় ইজিবাইক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বলেন, আমরা চাই এগুলো উঠে যাক। কিন্তু কীভাবে উঠবে? রাস্তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলো যাতে রাস্তায় না আসে, সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে যদি ৫০ লাখ গাড়ি থাকে, তাহলে সমপরিমাণ চালক আছে। দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আমরা এটিকে নিরাপদ করতে কাজ শুরু করে দিয়েছি। নীতিমালা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আপনাদের মতামত নিয়েছি।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে বিধিনিষেধে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছেন চালক-যাত্রীরা

সেতুসচিব মনজুর হোসেন বলেন, আমাদের যেমন সফলতা রয়েছে, তেমন ব্যর্থতাও রয়েছে। সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা থাকবে। পত্রিকায় যে সংবাদগুলো থাকে, তাতে অনেক সময় সত্যতা থাকে, অনেক সময় সেটা নাও থাকতে পারে। তারপরও আমরা মনে করি, আমাদের কাজ করে যেতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখানে ভুলত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সংবাদমাধ্যমে তথ্য এলে সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় উল্লেখ করে সেতুসচিব বলেন, আমাদের যদি ভুলত্রুটি থাকে, সেগুলো সবসময় সংশোধনের চেষ্টা করছি। কোনো কোনো সময় এমন তথ্যও থাকতে পারে, যা নিয়ে আমরা বলতে পারি, তাতে ঠিক অতটুকু সত্যতা থাকে না। তবে খবর প্রকাশিত হলে সংশোধনের সুযোগ পাই আমরা।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের অধীন মাইলফলক কিছু প্রকল্প হয়েছে। পদ্মাসেতু উদ্বোধন করতে পেরেছি। এমনকি প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই উদ্বোধন হয়েছে পদ্মাসেতু। মেট্রোরেল প্রকল্পও উদ্বোধন করতে পেরেছি। এরপরও আমাদের ব্যর্থতা ও ভুলত্রুটি থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘গতির ঝড়’ তুলতে মোটরসাইকেলে প্রাণ ঝরছে শিশু-কিশোরদের

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বলেন, আমার মনে হয়, সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি আমরা। আমরা ৪৪৫টি প্রকল্প শেষ করেছি। এরমধ্যে অসফল প্রকল্প থাকতে পারে, কিন্তু আপনারা যদি বলেন, তাহলে আমরা তা দেখবো। সব সময় বিআরটিএ’র কথা আসছে, আমরাও স্বীকার করে নিয়েছি যে বিআরটিএ’র পরিধি অত্যন্ত ছোটো। সপ্তাহে সাতদিন কাজ করা যায় না। বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে। কিন্তু সেখানেও কাজ করছি, কাজের গতি বাড়ছে। এবছরও আমাদের ১৫৬টি প্রকল্পের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ৬০০ প্রকল্প শেষ হওয়ার পথে।

তিনি আরও জানান, গেলো দুই অর্থবছরে আমরা ১০০টি সেতু উদ্বোধন করেছি। আমরা দুই হাজার কিলোমিটারের সড়কও উদ্বোধন করেছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বড় একটি অভিযোগ ছিল। আমরা কিন্তু ঘরে ঘরে লাইসেন্স পৌঁছে দিয়েছি। আজ পর্যন্ত সাত হাজার গ্রাহকের বাড়িতে লাইসেন্স পৌঁছেছে। এটি আমাদের অর্জন। নবায়নের সমস্যার সমাধান হবে। বিআরটিসি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নতুন কোনো গাড়ি বহরে যোগ না করে পুরোনোগুলো মেরামত করে বিআরটিসি ঋণ পরিশোধ করেছে। তারা প্রায় ৯০০ লোককে নিয়োগ দিয়েছে।

আইএইচআর/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।