বিবিএসের জরিপ

দেশে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৬২.৯২ শতাংশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৯ এএম, ১৮ জুলাই ২০২৩

#৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের সাক্ষরতার হার ৭৬ শতাংশ
#৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের শিক্ষার হার ৬৯ শতাংশ
#দেশের ২৬ শতাংশ জনগোষ্ঠী স্বাক্ষর জ্ঞানহীন
#১১ শতাংশ আংশিক স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন
#১৯ শতাংশ প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন
#৪৩ শতাংশ উন্নত পর্যায়ের স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন

দেশে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। ৭ বছর বা তদূর্ধ্ব বাংলাদেশি নাগরিকদের এ হার হিসাব করা হয়েছে। যিনি পড়তে, অনুধাবন করতে, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে, যোগাযোগ স্থাপন করতে এবং গণনা করতে পারেন তাকেই প্রায়োগিক সাক্ষরতার আওতায় হিসেব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রায়োগিক স্বাক্ষরতা নিরূপণ জরিপ ২০২৩ এর ফলাফলে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনটি সোমবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান।

২০২৩ সালের জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাত বছর থেকে উপরের বয়সীদের প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের ৬৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নারীর হার ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পল্লী এলাকায় এ হার ৫৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং নারী ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শহর এলাকায় প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৯৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ৭৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং নারী ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে দেশে এখন প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ১১-৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যেটি ২০১১ সালে ছিল ৫৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত ১৩ বছরে এই হার বেড়েছে ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এই বয়সী পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ১০ এবং নারীদের ৭৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে জানান হয়, প্রায়োগিক সাক্ষরতা নিরূপণের ক্ষেত্রে এ জরিপটি ব্যতিক্রম। কারণ এর মাধ্যমে সাক্ষরতার হার যাচাইয়ে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তির ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেলে প্রায়োগিক স্বাক্ষর বলে ধরা হয়। ৭-১৫ বছর এবং ১৫ থেকে অনুর্ধ এ দুটি বয়সের ক্যাটাগরিতে আলাদা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে জরিপ করা হয়েছে। জরিপ পরিচালনা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে গত জুন পর্যন্ত। দেশের ৬৫ জেলার চার হাজার ৯৬টি প্রাইমারি স্যাম্পল এরিয়া বা পিএসইউ থেকে ৮১ হাজার ৯২০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতি পিএসইউতে ২০টি করে খানা বা পরিবার ধরা হয়েছে। এ কাজে গণনাকারী ছিলেন এক হাজার ২৪ জন। এর আগে ২০০৮ এবং ২০১১ সালে দুটি জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিল।

বিবিএস-এর প্রতিবেদনে ১১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে বয়ঃভিত্তিক প্রায়োগিক স্বাক্ষরতার হারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ২০২৩ সালের জরিপে পাওয়া গেছে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১১ সালের জরিপে ছিল ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া ১৬-২০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৮৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা আগের জরিপে ছিল ৬৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২১-২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৮২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা ২০১১ সালের জরিপে ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২৬-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা আগের জরিপে ছিল ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৩১-৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা আগের জরিপে ছিল ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ৩৬-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা আগে ছিল ৩৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া ৪১ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা ২০১১ সালের জরিপে ছিল ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এসব তথ্যে দেখা যায়, প্রত্যেক বয়সী মানুষেল মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার বেড়েছে।

অনুষ্ঠানের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একটি ভালো বিষয় হচ্ছে বিবিএসের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। উপবৃত্তি দেওয়ার কারণে সাত থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়ে ৭৬ শতাংশ হয়েছে। যেখানে ছেলেদের এ হার ৬৯ শতাংশ। তিনি কীভাবে সাক্ষরতা বাড়ে তা নিয়ে আরও একটি জরিপ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন বলেন, জরিপটি জুন মাসের মধ্যে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। তবে এ প্রকল্পটির যিনি পরিচালক ছিলেন তিনি মারা গেছেন। তাই আরেকজনকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

এমওএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।