কোরিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ এএম, ৩১ আগস্ট ২০২৩

দক্ষিণ কোরিয়ান বৈদ্যুতিক ক্যাবল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলএস ক্যাবল অ্যান্ড সিস্টেম লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় কোম্পানিগুলোকে দিয়ে কাজ করিয়ে পরে বিভিন্ন কৌশলে পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি বলে জানায় কোম্পানিটির লোকাল এজেন্ট। পাওনা টাকা চেয়ে এখন তারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা ফিরে পেতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কোম্পানিটির লোকাল এজেন্ট বিএনএফ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এলএস ক্যাবল বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সরবরাহ ও প্রতিস্থাপনের কাজ করে আসছে। এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করতে তারা বাংলাদেশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিএনএফ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে তাদের লোকাল এজেন্ট এবং সাব কন্ট্রাক্টর হিসেবে চুক্তি সম্পাদন করে। কাজ শুরুর প্রথম দিকে তারা চুক্তির শর্ত মোতাবেক চলমান বিল উত্তোলন করে বিল পরিশোধ করতে থাকে। পরবর্তীতে তারা চলমান বিল পরিশোধ না করে তাদের নিজস্ব একাউন্টে জমা করে। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বিএনএফ ইঞ্জিনিয়ার্সের পক্ষ থেকে একাধিক ইনভয়েস জমা দিলেও তারা কোনো টাকা পরিশোধ করেনি। কোরিয়ান কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত ৪টি চুক্তিতে আমাদের প্রায় ৪৮ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে এলএস ক্যাবল অ্যান্ড সিস্টেম লিমিটেডের কাছে আটকে আছে।

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, প্রায় ৪৮ কোটি টাকা পাওনা আটকে থাকার কারণে আমরা আর্থিক চাপে পড়ে যাই। আমাদের এই ক্যাবল স্থাপন কাজটি সম্পূর্ণ শ্রমিক নির্ভর। যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করতে পারায় বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে ব্যাংকসহ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা ঋণে পড়ে যাই। ইতিমধ্যে আমরা এলএস ক্যাবল অ্যান্ড সিস্টেম লিমিটেডকে একাধিকবার তাগাদা দিলে আমাদের স্টাফসহ সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং তাদের অফিসে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, পাওনা টাকা না দিয়ে উপরন্তু এলএস ক্যাবল মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছে যে, তারা সরকারের বিভিন্ন কোম্পানি ডেসকো, ডিপিডিসি, পিজিসিবি ইত্যাদি থেকে কোনো বিল পায়নি। তাই তারাও বিএনএফ ইঞ্জিনিয়ার্সকে বিল পরিশোধ করতে পারছে না। তখন আমরা সরকারের উপরোক্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এলএস ক্যাবলের সব পাওনা টাকা ইনভয়েসের মাধ্যমে অনেক আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।

মূলত এলএস ক্যাবল লিমিটেডের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট স্যাম ইউ, হং লী, সৌদীপ, ইমাম ও নাফিসের ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা লাভে বিএনএফের কাজের টাকা পরিশোধ না করে দিনের পর দিন ঘুরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোস্তফা কামাল।

পাওনা টাকা উদ্ধারে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বিএনএফ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের পক্ষ থেকে কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং কোরিয়ান বিজনেস অথরিটি কোটকা প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া আমরা এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে বিষয়টি অবগত করেছি।

আরএসএম/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।