যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব

বাস মালিকদের প্রেসক্রিপশনে ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সরকার বাসভাড়া নির্ধারণ করে বলে দাবি করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এ দাবি করেন তিনি।

যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে ‘সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সরকার, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো মিলেমিশে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সেক্টর পরিচালনা করছে। ফলে এ সেক্টরে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।

এসময় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী বাসভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে মালিকদের সংখ্যা অনুপাতে যাত্রী বা ভোক্তা প্রতিনিধি রাখার বিধান রয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বাসভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে মালিক-শ্রমিক সরকার মিলেমিশে ভাড়া নির্ধারণ করছে। এতে করে কখনো কখনো সরকার বাস মালিকদের পকেটে ঢুকে ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাসের রুট অনুযায়ী বাসের সিলিং নির্ধারণ, ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ, বাসস্টপেজ নির্ধারণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় মনিটরিং কমিটি, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তা তহবিল, বিআরটিএ, বিআরটিসি, সওজ, মেট্রোরেল পরিচালনা পর্ষদ, টোল নির্ধারণ, পরিবহন আইন তৈরি, যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে প্রতিটি কমিটিতে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ তে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সভায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেছা খানম বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন, অথচ সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রী স্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দাবি তুলে আসছি। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। অথচ সরকার সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রী সাধারণের মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখেনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যাত্রী সাধারণের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের উপায় না থাকায়, নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এতে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেও এ সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ায় সড়ক পরিবহন আইনের দাবি ওঠে। নাগরিক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়। কিন্তু জনসাধারণের মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায়, এ আইন তৈরির দীর্ঘ চার বছরেও নতুন আইন ও পুরোনো আইনের তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের যোগাযোগ সেক্টরে অবকাঠামো নির্মাণে কোটি টাকা ব্যয় হলেও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের শহর ও শহরতলীতে যাতায়াতের জন্য মানসম্মত কোনো গণপরিবহন নেই। রাজধানীতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে ভোগান্তি নিয়ে লাখ লাখ নগরবাসী প্রতিদিন যাতায়াত করছেন।

এমএমএ/জেডএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।