টিআইবি
সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি উত্তরণ হলেও বিনিময়ে যা পেয়েছি তা উদ্বেগের
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি, যেটা ইতিবাচক। যেটার বিনিময়ে আমাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। কারণ এর বিনিময়ে আমরা যেটা পেয়েছি সেটা হলো বাস্তব, বিরোধীদল বিহীন সংসদ। সেটা সংস্কৃতিতে রুপান্তর হয়েছে যা উদ্বেগের বিষয়।
রোববার (১ অক্টোবর) টিআইবি’র কার্যালয়ে পার্লামেন্টওয়াচ: একাদশ জাতীয় সংসদ-প্রথম থেকে ২২তম অধিবেশন (জানুয়ারি ২০১৯ - এপ্রিল ২০২৩) শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি বলেও জানান ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সংসদে থাকা বিরোধীদল সরকারের কৃতিত্বের দাবিদার চেয়েছেন। ফলে বিরোধীদলের যে প্রত্যাশিত ভূমিকা তা আমরা পাইনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদে যে প্রধান বিরোধীদল আছে তারা দশম সংসদের তুলনায় কিছুটা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে। দুর্নীতি,অনিয়ম কোনো কোনো আইনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সার্বিকভাবে তারা আত্মপরিচয়ের সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারেনি।
একাদশ সংসদেও কোরাম সংকট অব্যাহত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮৪ ভাগ অধিবেশন বিলম্বে শুরু হয়েছে। সংসদ সদস্যদের অসংসদীয় আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। অশ্লীল ভাষা, অসংসদীয় শব্দ চয়ন, অধিবেশনের বক্তব্য চলাকালে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা, ঘুমিয়ে পড়া এ ধরণের বিষয়গুলো দেখা গেছে। সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি কমেছে। বিরোধী দলের উপস্থিত আরও কমেছে।
সংসদ নেতার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনার বিষয়বস্তুতে দেখা গেছে, মূল বিষয়ের বাইরে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে দলীয় লোকজনের প্রসংশা, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের দল, বাইরের মানুষ সম্পর্কে কটূক্তি-সমালোচনায় সময় কাটাতে দেখেছি। যা সংসদীয় চর্চা বহির্ভূত।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদীয় কার্যক্রমে বিষয়ভিত্তিক, প্রাসঙ্গিক ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে সরকার ও সরকার প্রধানের প্রশংসা এবং প্রতিপক্ষ দলের প্রতি আক্রমণাত্মক সমালোচনার প্রাধান্য ছিল। সংসদীয় কার্যক্রমে সদস্যদের অনুপস্থিতি, যথাযথ গুরুত্ব সহকারে অংশগ্রহণ না করা, প্রতিপক্ষের মতামত প্রকাশে বিঘ্ন ঘটনো ও মতামত গ্রহণ না করার প্রবণতার কারণে কার্যক্রমসমূহের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া ও স্থায়ী কমিটিগুলোর নিয়মিত বৈঠকের ঘাটতি ছিল।
সংসদে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ হলেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ মোতাবেক ২০২০ সালের মধ্যে তা ৩৩ শতাংশ নিশ্চিত করা যায়নি। সংসদীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর অংশগ্রহণে ঘাটতি ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
এসএম/এমআইএইচএস/এএসএম