ভারত থেকে আসছে মাদক

হেরোইনের বিকল্প হিসেবে টাপেন্টাডল সেবন করেন মাদকসেবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২৩

ব্যথানাশক ট্যাবলেট তৈরির মূল উপাদান টাপেন্টাডল, ২০২০ সালে এটিকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। মাদকের বিকল্প হিসেবে মাদকসেবীরা এই ট্যাবলেট ব্যবহার করেন। গতকাল টাপেন্টাডল ট্যাবলেটের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়। ভারতে থেকে আসা এই নিষিদ্ধ মাদক জব্দের সময় দুই মাদক কারবারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- মো.তামজীদ পাটোয়ারী (২৯) ও মবিনুর রহমান (৩০)। তামজীদের বাড়ি কুমিল্লায় ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক করেছেন। মবিনুরের বাড়ি শরীয়তপুরে, তিনিও সদ্য গ্র্যাজুয়েট।

jagonews24

বুধবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী এসব তথ্য জানান।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর হাজারীবাগে হাজী আফছার উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিএনসি। এসময় এক লাখ ২১ হাজার পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার ও ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

মজিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, এসব মাদক ভারতের তেলেঙ্গানা ও গুজরাটের দুটি কোম্পানি থেকে কুমিল্লা সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে আসে। পরে কুমিল্লা থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসে ঢাকায়।

প্রশান্ত সাহা নামে এক মাদক কারবারি (পেশা চিকিৎসক) কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে টাপেন্টাডল মাদক দেশে নিয়ে আসেন। এরপর সেগুলো বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় তামজীদ পাটোয়ারী ও মবিনুর রহমানের কাছে পাঠান। তামজীদ ও মবিনুর রহমান টাপেন্টাডল সংগ্রহ করে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মজুত করেন। রাজধানী ঢাকা, মাদারীপুর ও বেশ কয়েকটি জেলা শহরে একাধিক ক্রেতা রয়েছে তাদের।

টাপেন্টাডল ব্যথানাশক ওষুধ, মাদক হিসেবে এর ব্যবহার কীভাবে হয় জানতে চাইলে ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, এটা ব্যথানাশক ওষুধ হলেও অনেকে মাদক হিসেবে গ্রহণ করেন। যারা মাদক সেবন করেন তারাই ক্রেতা। এটি একটি অপিয়েড (আফিমজাত নেশা দ্রব্য) মাদক, হেরোইন সেবনের পর যে অনুভূতি হয়ে এটা সেবন করলে তেমনই অনুভূতি হয়।

jagonews24

এই ট্যাবলেট দীর্ঘদিন সেবন করলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার কারণে এই ওষুধকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএনসির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এই মাদক সেবনে স্নায়ু দুর্বল করে। অন্যান্য সব মাদকের কারণে শারীরিক যেসব সমস্যা হয় এটা সেবন করলেও একই ধরনের সমস্যা হয়।

চিকিৎসক প্রশান্তা সাহার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার দুই আসামির কাছ থেকে আমরা তার বিষয়ে জানতে পেরেছি। তার ভারতে নিয়মিত যাতায়াত আছে। তিনি ভারত থেকে এই মাদক কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে দেশে নিয়ে আসেন। পরে কুরিয়ারের মাদধ্যমে এসব মাদক ঢাকায় পাঠান।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক চালান হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের সতর্ক করার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মজিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর কর্তৃপক্ষদের নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করেছি। তাদের আমরা বলার চেষ্টা করেছি এবং বুঝিয়েছি কী কী করা যাবে এবং কী কী করা যাবে না। তারা আমাদের পরামর্শ শুনেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

টিটি/কেএসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।