‘ডোম-ইনোর প্রতারণার কারণে আমাদের পথে বসতে হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২৬ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৪

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ডোম-ইনোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, ডোম-ইনোর প্রতারণার কারণে তাদের পথে বসতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা।

লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে ভুক্তভোগী আদনান সোবহান বলেন, আমরা তিল তিল করে কষ্টের উপার্জনে রাজধানীর বুকে একখণ্ড জমির মালিকানা লাভ করেছি। অথচ এ জমি নিয়েই আমাদের প্রত্যেকে আজ ভয়াবহ সংকটে বিপর্যস্ত। নিজের জমির ওপর ভবন তৈরির লক্ষ্যে ডোম-ইনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রায় পথে বসার মতো অবস্থা।

তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকায় একটি আবাসিক বহুতল ভবন নির্মাণে সাধারণভাবে তিন বছরের মতো সময় লাগলেও কোম্পানিটির চরম অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ১২ থেকে ১৬ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। এমনকি চুক্তিপত্র অনুযায়ী সাইনিং মানি প্রদানের শর্ত থাকলেও সে অর্থের বড় অংশ অনেক জমির মালিক এখনো বুঝে পাননি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কোম্পানিটির বাস্তবায়নাধীন এমন প্রকল্পও আছে, যেখানে চুক্তি সইয়ের এক দশক পরও ভূমি উন্নয়নের প্রাথমিক কাজই শুরু হয়নি। এ দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১০ শতাংশ। অথচ ডোম-ইনো এরই মধ্যে তাদের প্রাপ্য অংশের নির্মাণাধীন প্রায় সব ফ্ল্যাটই বিক্রি করে ফেলেছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ কোনো খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিংবা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না তা একেবারেই অস্পষ্ট। এদিকে জমির মালিকদের পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফ্ল্যাট মালিকরাও। অর্থ পরিশোধ করেও তারা নিজেদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝে পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী আদনান সোবহান বলেন, কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানিটি দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নানা প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়ে চলেছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ভবন হস্তান্তর করতে না পারলে প্রতি মাসে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ পর্যন্ত প্রায় কোনো জমির মালিককেই অর্থ পরিশোধ করেনি ডোম-ইনো কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে বেশ কিছু জমির মালিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন। জানা মতে, ডোম-ইনোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ১৩৬টি মামলা হয়েছে। যদিও মামলার গতি হতাশাজনক।

তিনি বলেন, রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর সংগঠন রিহ্যাবের কাছেও মৌখিক ও লিখিতভাবে ডোম-ইনোর বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো রিয়েল এস্টেট কোম্পানির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সদস্যপদ বাতিল করতে পারে সংগঠনটি। তবে এখন পর্যন্ত সে ব্যবস্থাও নেয়নি রিহ্যাব। বরং বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করা গেছে, গতবছর রিহ্যাব মেলার গোল্ড স্পন্সর ছিল ডোম-ইনো। প্রতারণা ও অসততার মূর্ত প্রতীক এই ডোম-ইনোকে রিহ্যাব কীভাবে এমন অনুমোদন দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিল ও সই জালিয়াতির মাধ্যমে জমির ভুয়া নকশা তৈরির মতো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আছে ডোম-ইনোর বিরুদ্ধে। রাজধানীর বনানীতে এ প্রক্রিয়ায় নির্মিত একটি ভবনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ডোম-ইনোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যা বর্তমানে চলমান।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আদনান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স অবস্থান, অসহায় মানুষদের প্রতি তার অকুণ্ঠ মমত্ববোধ আমাদের আশান্বিত করে। তার আন্তরিক অভিভাবকত্বে, সহযোগিতায় আমরা হাজারো মানুষ এই ভয়াবহ দুর্বিপাকের কবল থেকে চিরতরে মুক্তি পাবো।

এসময় ৬ দফা দাবি জানান প্রতারিত ভুক্তভোগী জমি মালিকরা। দাবিগুলো হলো-

ডোম-ইনো সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় একটি সেল বা কমিশন গঠন।

প্রকল্প হস্তান্তরের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমির মালিক ও ডোম ইনোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করতে হবে। একই সঙ্গে ডোম ইনোকে দেওয়া জমির মালিকের রেজিস্ট্রিকৃত আম মোক্তারনামাটিও বাতিল ঘোষণা করতে হবে, যাতে এর কোনো কার্যকারিতা না থাকে।

ডোম ইনো কর্তৃক জমির মালিককে প্রদানকৃত যেসব চেক ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির বিপরীতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে হবে।

জমি ও ফ্ল্যাট মালিকদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা।

সবশেষ সংকট নিরসনে প্রধান বিচারপতিকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ডোম ইনোর বিরুদ্ধে একটি রুল জারি করার আহ্বান জানান মালিকরা। একই সঙ্গে আইন, গণপূর্ত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শক্ত হাতে এ সংকট সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মঈনুল আলম, হুমায়ুন হাসাম, কাজী আদনান সোবহান, শিহাব উদ্দিন আহমেদ, রুমানা আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এমএমএ/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।