হলফনামা

জামায়াতের ফজলুলের সম্পদ সাড়ে ৭ কোটি টাকার, স্ত্রীর প্রায় ৫ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি ও বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক/ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি ও বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোষিত বার্ষিক আয়ের তুলনায় ফজলুল হক ও তার স্ত্রী আমেনা শাহীনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এ কে এম ফজলুল হক এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হলেও আয়ের উৎস হিসেবে চিকিৎসা পেশার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সম্পদের পরিমাণ ও বিনিয়োগ

হলফনামায় ফজলুল হক নিজের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫১ টাকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্রে ৪ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৭০ টাকা, যা মোট সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি।

স্থাবর সম্পদের হিসেবে তার কৃষিজমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টাকার বেশি এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে তার স্ত্রী আমেনা শাহীনের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকা। তার সম্পদের বড় অংশও বিনিয়োগভিত্তিক। বন্ড, শেয়ার ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৪৫ লাখ টাকার বেশি। আমেনার নামে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফজলুল হকের ঘোষিত বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৪৬ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং চাকরি থেকে আয় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই আয়ের বিপরীতে তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

তার স্ত্রী আমেনা শাহীনের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪ টাকা। শিক্ষকতা ও হাসপাতাল পরিচালনায় যুক্ত থেকেও তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা, যা ঘোষিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।

কর পরিশোধের চিত্র

চলতি করবর্ষে (২০২৫-২৬) ফজলুল হক তার প্রায় ২০ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

তার স্ত্রী প্রায় ১৬ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮৪ টাকা।

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ কে এম ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনার তার দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে মনোনয়ন বাতিল করেন। তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেন।

এমআরএএইচ/এমএমকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।