পুলিশি তৎপরতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
পুলিশি তৎপরতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে

পুলিশি তৎপরতা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারের প্রতি দমনপীড়নের পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসী দমনের নামে পাইকারী গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্যাতন, ব্যাপক পুলিশি তৎপরতায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষার নামে পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর বাড়াবাড়ি রকম দৌরাত্ম্যের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, এই পরিস্থিতির অসহায় শিকারে পরিণত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ‘দমন করে শাসন কর’- সরকারের এই নীতির কারণে পুলিশি নির্যাতন-নিপীড়ন ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। আইনের শাসনকে কার্যতঃ নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নিপীড়নবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ-মিছিলে হামলা চালিয়েছে। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা পুলিশি ছত্রছায়ায় বেপরোয়াভাবে তৎপর। গত ৩০ জানুয়ারি বিজিএমই’র প্রধান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকেরা যেভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা রীতিমত নজিরবিহীন। তারা গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করেছে।

সভায় নেতৃবৃন্দ সরকারকে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে গণতন্ত্রের পথে হাঁটার দাবি জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে অতি উৎসাহী পুলিশি বাড়াবাড়ি বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

সিপিবি কার্যালয়ে বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ’র (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আজিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক এবং জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, রাজেকুজ্জামান রতন, আকবর খান প্রমুখ।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ বাতিলের দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

এফএইচএস/জেএইচ/আইআই