ইসি গঠনে ৬ প্রস্তাব খেলাফত আন্দোলনের
স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে স্থায়ী আইন প্রণয়নসহ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
এতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন, সৎ, নিষ্ঠাবান, যোগ্যতাসম্পন্ন, নিরপেক্ষ-নির্দলীয় ব্যক্তি এবং নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
নতুন ইসি গঠনে চলমান সংলাপের অষ্টম দিন সোমবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় বসেন খেলাফত আন্দোলন নেতারা।
সংলাপ শেষে রাত ৮টায় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ছয় প্রস্তাবের কথা জানান সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন।
এদিন দলের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জীর নেতৃত্ব খেলাফত আন্দোলনের সাত সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। এতে খেলাফতের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীও উপস্থিত ছিলেন।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কোনো স্থায়ী আইন করা হয়নি। আইন হলে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কখনো বিতর্ক হতো না। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের অনুপস্থিতিতে সার্চ কমিটি গঠন করতে হচ্ছে। সার্চ কমিটি নির্দলীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব নয়। দেশ ও জাতির স্বার্থে অবাধ, সুষ্ঠু, অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব দলের ঐতমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন করা জরুরি।
সৎ, নিষ্ঠাবান, যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিরপেক্ষ-নির্দলীয় ব্যক্তির সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের নীতিগতভাবে আল্লাহ ভীরু, বিজ্ঞ, ক্ষমতাসম্পন্ন, সৎসাহসী ও ন্যায়নীতিপরায়ন হওয়া দরকার।
সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে দলের এ নেতা বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও যেন নির্বাচন কমিশন বাস্তবেই স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়, দলের পক্ষ থেকে সংলাপে সে দাবিও জানানো হয় বলে জানান তিনি।
মুফতি মহিউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করেছে, যা নারীদের জোর করে রাজনীতিতে আসতে বাধ্য করার শামিল। এ ধারাটি ঐচ্ছিক রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া ধর্মবিদ্বেষী, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, অবৈধ সম্পদ বৈধকারী, খুনি, সন্ত্রাসী ও সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী এবং ঋণখেলাপিদের সঙ্গে জড়িত পরিবার ও মাদকাসক্তকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ নির্বাচিত হওয়ার পরও মেডিকেল টেস্টে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সদস্যপদ বাতিল করা বাঞ্ছনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা সাঈদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ও আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি।
গত ২০ ডিসেম্বর সংলাপ শুরুর প্রথম দিনই সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেন। এ পর্যন্ত মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল চলমান এ সংলাপে অংশ নিয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল ও সন্ধ্যা ৭টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ; ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় পার্টি (জেপি), সন্ধ্যা ৭টায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ; ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় গণফ্রন্ট, সন্ধ্যা ৭টায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আরএসএম/এমকেআর/এমএস