শ্রীলঙ্কার দ্রুত পতনের পেছনে গোষ্ঠীতন্ত্র দায়ী: সালেহউদ্দিন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছে, ‘অর্থনীতির সব সূচক ভালো থাকার পরও শ্রীলঙ্কার দ্রুত পতনের পেছনে গোষ্ঠীতন্ত্র দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘তারা গোষ্ঠীতন্ত্র তৈরি করেছিল। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানে যা কিছু করেছে, রাজা–বাদশাহরা করেছেন। তারা যা করতে বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাই করেছে। শ্রীলঙ্কার সফল একজন গভর্নর পদত্যাগ করেছেন। কারণ সরকার গভর্নরের কোনো কথা শোনেনি।’
শনিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘বর্তমান সংকট, দায় এবং সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে সাবেক গভর্নর বলেন, ‘অনেক দিন থেকে তাদের সমস্যা ছিল। তারা সময়মতো সমস্যাগুলো অ্যাড্রেস করেনি। শ্রীলঙ্কায় অনেক বুদ্ধিমান মানুষ আছেন, অনেক বিজ্ঞ লোক আছেন। তাদের কথা শ্রীলঙ্কার সরকার শোনেনি।’
অর্থ পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগে খেলাপি ঋণ ২২ হাজার কোটি টাকা ছিল। এখন তা এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটা কী করে সম্ভব? চট করে ছয় থেকে সাত গুণ খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে? টাকা পাচার কারা করে, সেটি নীতিনির্ধারকরা ভালো করেই জানেন। কিন্তু অর্থপাচার রোধে সরকার শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেয় না।’
এরআগে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিদ্যুতের চরম সংকটকে পুঁজি করে সরকার তার কিছু গোষ্ঠীর হাতে অকল্পনীয় পরিমাণ টাকা তুলে দিতে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ দুই বছর থেকে ১৬ বছর বাড়িয়েছে। গত ১০ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। তিন বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই বা না চাই, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে শ্রীলঙ্কার সংকট হতে পারে বলে কয়েকদিন আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএফএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। এর সূত্র ধরে বিবিসি কিছু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা বানিয়েছে। ওই তালিকায় পাকিস্তান, লাওস, মালদ্বীপের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও।’
এসময় বাংলাদেশের রিজার্ভ কাগজে–কলমে ৩২ বিলিয়ন ডলার আছে, যা বর্তমান আমদানির পরিমাণের হিসাবে মাত্র চারমাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে বলে দাবি করেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল সংকট ডলার পাচার। আপনাদের মনে থাকতে পারে, একজন মন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমলাদের বেগমপাড়ায় বেশি বাড়ি আছে। সংসদে খোদ প্রধানমন্ত্রীও এ কথা বলেছিলেন। কারা বিদেশে টাকা পাচার করেন, সেটি তিনি জানেন। তখন আমিসহ অনেকে বলেছিলাম, জানেন যদি তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু কোনো কিছু তারা করেননি। এত দিন পর যদি আমরা বলি, আপনারা টাকা পাচারকারীদের পালেন।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমত উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ উর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রমুখ।
আরএসএম/এএএইচ