নির্ধারিত দিনে ভোট না হলে সংকটে পড়বে দেশ, আশঙ্কা প্রবাসীদের

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ঐতিহাসিক শহর মালাক্কার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী ব্যবসায়ী/ছবি-আহমাদুল কবীর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও উন্নয়ন অগ্রগতির স্বার্থে সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

নির্বাচন পেছাতে যারা ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীরা সরকারকেও অনুরোধ করেছেন। যেন কোনো অপচেষ্টায় পা না দিয়ে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

কুয়ালালামপুর ও ঐতিহাসিক শহর মালাক্কার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিমত জানা গেছে। তাদের মতে, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশের ভেতরে যেমন অস্থিরতা তৈরি করে, তেমনি বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ায়। দেশে স্বজন-সম্পদ ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকায় দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতাই তাদের প্রধান কামনা।

মালাক্কায় বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা মো. মতিউর রহমান বলেন, আমরা বিদেশে থেকেও দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও আন্তর্জাতিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি মহল নানা ছুতোয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এরা দেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। সরকারের উচিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।

jagonews24

মালাক্কার আরেক কমিউনিটি নেতা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আজাদ উদ্দিন বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। দেশে অস্থিরতা থাকলে বিদেশে কাজ পাওয়া, ভিসা নবায়ন, এমনকি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই ব্যবসায়ী-শ্রমিক সবাই শান্তিপূর্ণ ও সময়মতো নির্বাচন চায়। নইলে দেশ বড় সংকটে পড়বে।

মালাক্কার মালাক্কা সেন্ট্রাল বাসস্টেশন এলাকায় কর্মরত শ্রমিক আব্দুর রহিম (নরসিংদী) বলেন, দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। একটি নির্বাচিত সরকার জরুরি। না হলে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তি থমকে যাবে। ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হতে হবে।

একই প্রদেশে কর্মরত শ্রমিক মো. নাসির (মোহাম্মদপুর, ঢাকা) বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা নানা সমস্যায় আছেন। শ্রমবাজারও নতুন চুক্তি বন্ধ। এগুলো খুলতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দরকার। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো ষড়যন্ত্র আমরা চাই না।

অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং অর্থনীতির চাকাও সচল হয় বলে মনে করেন কুয়ালালামপুরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকলে বিদেশে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ে, শিক্ষার্থীদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকে। সব শঙ্কা দূর করতে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা জরুরি।

প্রবাসীরা আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিবর্তনের কথা বলা হলেও বাস্তবে গণতন্ত্র ফেরেনি। মবতন্ত্র ও অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে নির্বিঘ্নে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, নির্বাচন পেছানো নয়-নির্ধারিত সময়েই ভোট; তবেই ফিরবে আস্থা, চলবে অর্থনীতি, নিশ্চিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]