ঝুঁকি নিয়েই বাজিমাত শান্তর, জানালেন সে সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনের কথা
বৃষ্টি ভুগিয়েছে প্রচুর। ভয় ছিল, উদ্বেগ-শঙ্কাও ছিল অনেক। শেষদিন খেলা হবে কি না ঠিকমতো? হলে কতটা হবে? এসব সংশয়, শঙ্কা কিন্তু ছিলই। তবু এমন অবস্থায়ও বাংলাদেশ দলে জয়ের আশা ছিল যথেষ্ট। তার প্রমাণ মিলেছিল চতুর্থ দিন শেষে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের কথায়।
সোমবার চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মিডিয়ায় কথা বলতে এসে আশরাফুল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ জিততে চায়। জিততে হলে করণীয় কী? তাও মোটামুটি স্থির। সেটা হলো, আজ মঙ্গলবার শেষ দিন বাংলাদেশ ৭০ ওভার অন্তত বাকি রেখে পাকিস্তানকে ২৬০ প্লাস রানের টার্গেট ছুড়ে দেবে। আশরাফুলের স্থির বিশ্বাস ছিল, তা দিতে পারলে বাংলাদেশই জিতবে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের ওই মন্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা না করলেও পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটার ও সাদা বলের অধিনায়ক আগা সালমান কৌশলে ‘মাইন্ড গেম’ খেলেছেন। তিনি পাল্টা বলেন, ‘আমার মনে হয় না বাংলাদেশ অত ঝুঁকি নেবে। বাংলাদেশ হয়তো নিরাপদ অবস্থানে থেকে তারপর ইনিংস ঘোষণা করবে।’
বোঝাই গেছে আগা সালমান টিম বাংলাদেশের কাছ থেকে একটা ঝুঁকিপূর্ণ ডিক্লেয়ারেশন চাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ কিন্তু তাই করেছে। সকালে লাঞ্চের আগে পৌনে দুই ঘণ্টা ব্যাটিং করে ২৬৮ রানের টার্গেট ছুড়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এমন নয় যে, ২৬৮ রান করতে পাকিস্তানিদের পর্যাপ্ত সময় বা ওভার ছিল না। ছিল। ওই টার্গেট ছোঁয়ার জন্য পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা পেয়েছিল অন্তত ৭৫ ওভার; কিন্তু শান মাসুদের দল তা কাজে লাগাতে পারেনি। পারেনি বলা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের বোলাররা আজান আইওয়াজ, আব্দুল্লাহ ফজল, শান মাসুদ, আগা সালমান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানদের তা করতে দেয়নি। পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে বেঁধে ফেলেন নাহিদ রানা, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদরা।
সবাই দেখেছেন জয়ের কী উদগ্র বাসনা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শরীরী অভিব্যক্তি ও আত্মনিবেদনে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ শেষে মিডিয়ায় কথা বলতে এসে প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে দিলেন, তারা জিততেই চেয়েছিলেন এবং তারা নিজেরা জানতেন, কি চান। তাদের সামর্থ্য কতটা? এই উইকেটে পাকিস্তানকে ২ সেশনে অলআউট করার সামর্থ্য তাদের আছে, এই আস্থাটাও ছিল পুরো দলের।
টাইগার ক্যাপ্টেন শান্তর ব্যাখ্যায় বোঝা গেছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে ২৮০ প্লাস টার্গেট দেওয়া। কিন্তু সময়ের কথা ভেবে তারা ২০ মিনিট আগেই ইনিংস ঘোষণা করেন। শান্তর কথা, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকেই ক্লিয়ার ছিলাম, আমরা কি করতে চাই। আমাদের ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০টা রান করার। বাট সামটাইমস আমার মনে হয় যে, এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি।’
কেন, কী কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া? বাংলাদেশ অধিনায়কের পরিষ্কার জবাব, ‘নিজ দলের বোলিং লাইনআপের ওপর আস্থা থেকেই খানিক আগেভাগে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে নামানো।’
‘এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং অ্যাটাক। আমার স্থির বিশ্বাস ছিল, আমাদের বোলিং লাইন এখন অনেক সুগঠিত। তাদের সামর্থ্য কতটা সেটাও আমার খুব ভালো জানা। তারা সবাই এরকম পরিস্থিতিতে কী কী করণীয়, তা খুব ভালো জানে। তাই আমি বোলারদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই ইনিংস ঘোষণা করেছি। মিরাজ যেভাবে স্টার্ট দিয়েছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিয়েছে, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে। তারপর তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। স্পেশালি এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার ওই স্পেলটা আউটস্ট্যান্ডিং ছিল।’
এআরবি/আইএইচএস